প্রকৃতিকে হাতের মুঠোয় আনা যায় না— এ কথা স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, “এমন করা হচ্ছে যেন প্রকৃতিও আমাদের হাতে! ভদ্রতার একটা সীমা আছে।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 23 September 2025 18:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন কলকাতা (Heavy Rain in Kolkata)। নাজেহাল শহরবাসী। বিকেলে এ ব্যাপারে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Chief Minister Mamata Banerjee) সরাসরি আঙুল তুললেন বিরোধীদের দিকে। যদিও নাম নেননি কারও।মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "কোনও কোনও রাজনৈতিক দল এই দুর্যোগ নিয়েও রাজনীতি করছেন, তাঁদের আমি ধিক্কার জানাই। মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে মিথ্যে কথা বলছেন।”
প্রকৃতিকে হাতের মুঠোয় আনা যায় না— এ কথা স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, “এমন করা হচ্ছে যেন প্রকৃতিও আমাদের হাতে! ভদ্রতার একটা সীমা আছে।” সঙ্গে ব্যঙ্গ, “উত্তরাখণ্ডকে, দিল্লিকে আমরা জলে ডুবুডুবু বলতে পারতাম। কিন্তু বলিনি।"
নাম না করে কেন্দ্রের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলেছেন, "ফারাক্কার ড্রেজিং হয়নি কেন? জবাব দিন না?" খানিক থেমে যোগ করেছেন, "পলি মাটি জমে গিয়ে বিহার, ইউপির জলটা আমাদের গঙ্গায় আসছে। গঙ্গার যদি জলধারণ ক্ষমতা কমে যায়, তাহলে কলকাতার জলটা আমরা কোথায় ফেলব?"
কলকাতার জলযন্ত্রণা নিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান বলেন, “আমাদের সরকার সাড়ে পাঁচ লক্ষ পুকুর খুঁড়েছে। বাংলার জল বাংলা সামলাবে, আমাদের সেই ক্ষমতা আছে। কিন্তু বাইরে থেকে যে জল ঢুকে পড়ছে, সেটা রোখা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। তার ওপর টানা ৪-৫ মাস ধরে বর্ষা চলছে। গ্রীষ্ম, শরৎকালও বর্ষার মধ্যে ঢুকে পড়েছে। তারওপর পুজো এবারে এগিয়ে এসেছে। সব মিলিয়ে মানুষের এই দুর্ভোগ।”
শহর কলকাতা থেকে জল নামতে দেরি হওয়ার জন্য মেট্রো কর্তৃপক্ষকেও দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, "মেট্রোর কাজের জন্য দিনের পর দিন বালি, মেটেরিয়ালস পড়ে থাকে। নালা বন্ধ হয়ে যায়। দায় ওদেরও নিতে হবে।”
বিদ্যুতের খোলা তারে প্রাণহানির প্রসঙ্গ টেনে মমতার বার্তা, “৮-৯ জন মারা গিয়েছেন বিদ্যুতের জন্য। সিইএসসি-কে বলেছি, রাস্তায় পড়ে থাকা তারগুলো সরাতে হবে।”
যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্ষোভের সুরে বলেন, “জীবনের বিকল্প অর্থ হয় না। তবু সরকারের তরফে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আমার মনে হয়, প্রত্যেক পরিবারকেই অন্তত পাঁচ লক্ষ টাকা দেওয়া উচিত ওদেরও (সিবিএসসি।” সকলকে সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শও দেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।