
শেষ আপডেট: 17 December 2018 18:30
কিন্তু বিরোধী শিবিরের একাংশের এ হেন আপত্তি থাকলেও ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ফের মুখ খুললেন স্ট্যালিন। তিনি বলেন, যা বলেছি, ভেবেচিন্তেই বলেছি। হিন্দিবলয়ের তিন রাজ্য মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগড় ও রাজস্থানে কংগ্রেসের জয়ের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, “রাহুলকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী ঘোষণা করে বিরোধী জোটকে ঐক্যবদ্ধ করা জরুরি।” কেন তা মনে করছেন স্ট্যালিন? করুণানিধি পুত্রের জবাব, “তিনি রাজ্যে জয়ের নেপথ্য নায়ক রাহুল। তিনিই বিজেপি দুর্গে ধস নামিয়েছেন। মোদী বাহিনীকে পরাস্ত করতে হলে এমনই একজন মজবুত নেতা প্রয়োজন। যিনি সমস্ত গণতান্ত্রিক দলের সঙ্গে সমন্বয় করে চলার ক্ষমতা রাখেন।” তাঁর কথায়, “আমি আশা করি, বাকি শরিকরা এ ব্যাপারটা বুঝবেন।” তামিলনাড়ুর প্রাক্তন উপ মুখ্যমন্ত্রী এও বলেন, বিভাজনের রাজনীতিকে পরাস্ত করে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ কায়েম করতে রাহুলের হাত শক্ত করা ছাড়া বিকল্প নেই।
শুধু স্ট্যালিন নয়, এর আগে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডুও রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী পদ প্রার্থী হিসাবে তুলে ধরার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, চন্দ্রবাবু এবং স্ট্যালিনের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক সখ্য রয়েছে। সম্প্রতি তিনি নিজেও বলেছেন, তাঁর সঙ্গে প্রায়ই স্ট্যালিন ও চন্দ্রবাবুর ফোনে কথা হয়। কদিন আগে মমতার সঙ্গে দেখা করতে নবান্নেও এসেছিলেন বাবু।
কিন্তু রাহুল প্রশ্নে এই দু’জনের সঙ্গে মমতা তথা তৃণমূলের মতান্তর ইদানীং ক্রমশই প্রকট হচ্ছে। তৃণমূলের এক সাংসদ মঙ্গলবার বলেন, বাংলায় তৃণমূল নিরঙ্কুশ ক্ষমতায় রয়েছে। ফলে উনিশের ভোটের আগে রাহুলের নেতৃত্ব মেনে নেওয়ার কথা তৃণমূল কখনওই বলবে না। দ্বিতীয়ত উনিশের ভোটের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনেও প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য দরজা খুলে যেতে পারে। তাই এখনই কংগ্রেসের নেতৃত্ব মেনে নেওয়া রাজনৈতিক ভাবেও বুদ্ধিমত্তা নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্থানে সনিয়া গান্ধী থাকলেও তাই করতেন। কিন্তু রাহুলকে পাশে পাওয়া স্ট্যালিন বা চন্দ্রবাবুর জন্য এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশে কংগ্রেসকে জোটে চাইছেন তাঁরা। তাই রাহুল প্রধানমন্ত্রী পদ প্রার্থী ঘোষণার জন্য এতো আগ্রহ ওঁদের।