
শেষ আপডেট: 27 July 2023 15:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একজন বিধায়কের সম্পত্তির পরিমাণ কত হতে পারে? হাজার-লক্ষ-কোটির নিরিখে, সর্বোচ্চ কোন অঙ্কে গিয়ে থামতে পারে এই হিসেব! সম্প্রতি অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস বা ADR-এর রিপোর্ট সামনে আসতেই দেখা গেছে, তথ্য বলছে, এই অঙ্কটা ১৪০০ কোটি টাকা! অর্থাৎ ১৪-র পরে ৯টা শূন্য!
এই টাকার মালিক অর্থাৎ দেশের সবচেয়ে ধনী বিধায়ক (Richest MLA) হিসেবে নাম উঠে এসেছে কর্নাটকে সদ্য উপ-মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া ডিকে শিবকুমারের (DK Shivkumar)। তাঁরই অ্যাকাউন্টে রয়েছে এই পরিমাণ অর্থ।
এই রিপোর্টে সামনে এসেছে, দেশের সবচেয়ে গরিব বিধায়কের নামও। এবং এই তকমা জুটেছে পশ্চিমবঙ্গের এক বিজেপি বিধায়কের। তাঁর নাকি মোটে ১ হাজার ৭০০ টাকা রয়েছে অ্যাকাউন্টে! বাঁকুড়ার ইন্দাসে থাকেন নির্মল (Nirmal Dhara)। একটি পুরনো পাকা বাড়ি আছে তাঁর। বাড়িটি একতলা ছিল, সম্প্রতি দোতলা হয়েছে। গাড়িও কিনেছেন সবে কয়েকদিন হল। আশপাশের এলাকায় তাঁকে প্রায়ই দেখা যায় পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়াতে, স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে।
বস্তুত, এ দেশে ধনসম্পত্তির এমন অসম বণ্টন নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে রাজনৈতিক মহলে নেতানেত্রীদের এমন বিসদৃশ অঙ্কের টাকার কথা প্রায়ই সামনে আসে। দেশের বিধায়কদের মধ্যেও এমনটা আগে দেখা গেছে। সম্প্রতি দেশের নানা প্রান্ত থেকেই খবর এসেছে নেতামন্ত্রীদের বাড়ি থেকে টাকার পাহাড় উদ্ধারের। মুখ্যমন্ত্রীদের অর্থসম্পত্তির পরিমাণেও রয়েছে এই বৈষম্য। যেমন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাকি রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের তুলনায় 'গরিব'ই বলা যায়।
মাস দুয়েক আগেই কর্নাটকের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস জেতার পরে ক্যাবিনেট গড়ে এবং মুখ্যমন্ত্রী হন সিদ্দারামাইয়া। তাঁর উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নাম ঘোষণা হয় বিধায়ক ডিকে শিবকুমারের। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি ছিলেন ব্যবসায়ী। রাজনীতিবিদ হওয়ার পরে দেখা গেছে, শিবকুমারের মোট সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা, এমনই বলছে এডিআর-এর রিপোর্ট।
শুধু তাই নয়, ওই রিপোর্ট অনুযায়ী দেশের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় দুই ধনী বিধায়কও কর্নাটকেরই। নির্দল বিধায়ক কেএইচ পুট্টস্বামী গৌড়া, তাঁর ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার ২৬৭ কোটি টাকা এবং কংগ্রেস বিধায়ক প্রিয় কৃষ্ণ। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার ১৫৬ কোটি টাকা। এখানেও শেষ নয়, দেখা গেছে, ওই ধনী বিধায়কের তালিকার প্রথম ২০ জনের মধ্যে ১২ জনই এই রাজ্যের।
এই রিপোর্ট সামনে আসার পরে স্বাভাবিক ভাবেই রাজনীতি মহলে বিতর্কের ঝড় বয়ে গেছে। ডিকে শিবকুমার অবশ্য দাবি করেছেন, 'আমি ধনীতম নই। তবে আমি দরিদ্রও নই। দীর্ঘ সময় ধরে আমি এই সম্পদ অর্জন করেছি। আমার সব টাকা কেবল আমার নামেই আছে। অন্য অনেকেরই অনেক সম্পত্তি নানাজনের নামে ছড়িয়ে থাকে।'
অন্যদিকে এই রিপোর্ট মোতাবেক সামনে এসেছে, ধনীতম বিধায়ক কংগ্রেসের হলেও, দেশের সবথেকে ধনী ১০ মধ্যে তিন জন রয়েছেন বিজেপি-রও। এই নিয়ে কংগ্রেসের বিধায়ক রিজওয়ান আরশাদ জানিয়েছেন, শিবকুমার নিজে ব্যবসা করেন। তিনি যদি বিপুল সম্পত্তি উপার্জন করেই থাকেন, তাতে দোষের কিছু নেই। তবে একাধিক কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত বিজেপি বিধায়কদের ধনসম্পত্তির কোনও হিসেব নেই লেই অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
তবে এই বিধায়কদের তালিকার শেষ প্রান্তটিও বিশেষ লক্ষ্যণীয়। একেবারে নাম রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি বিধায়ক নির্মল কুমার ধারার। তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ২ হাজার টাকারও কম। তাঁর পরেই গরিব বিধায়ক হিসেবে রয়েছেন ওড়িশার নির্দল বিধায়ক মকারান্দা মুদুলি, যাঁর মাত্র ১৫ হাজার টাকা আছে। এর পরে রয়েছেন পঞ্জাবের আপ বিধায়ক নরিন্দর পাল সিং সাওনারা, যাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ১৮ হাজার ৩৭০ টাকা।
মণিপুরে দুই মহিলাকে বিবস্ত্র করে হাঁটানোর ঘটনার তদন্ত করবে সিবিআই, বাজেয়াপ্ত সেই মোবাইল