তবে অনিকেত নিজের অবস্থানে অনড়। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “বর্তমান ডব্লিউজেডিএফ নেতৃত্ব ব্যক্তিগত ভাবে মেল করে এবং সংবাদমাধ্যমে এই চিঠি পাঠিয়েছে। ব্যবহৃত ভাষা ও অভিযোগের উত্তর দেওয়া আমি সমীচীন মনে করি না। সহযোদ্ধাদের কাছ থেকে এই ভাষা প্রত্যাশা করিনি।”
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 3 January 2026 09:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর আন্দোলনের (RG Kar Movement) অন্যতম মুখ অনিকেত মাহাতর (Aniket Mahato) ইস্তফা-চিঠি (Resignation letter) ঘিরে তীব্র মতবিরোধ প্রকাশ্যে এল পশ্চিমবঙ্গ জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টে (West Bengal Junior Doctor Front)। বোর্ড অফ ট্রাস্ট থেকে ইস্তফা দেওয়ার পাশাপাশি সহযোদ্ধা দেবাশিস হালদার ও আসফাকুল্লা নাইয়ার কাজে যোগ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলায় অনিকেতকে পাল্টা চিঠি দিল ফ্রন্টের একাংশ। তাদের স্পষ্ট দাবি—নিজের বক্তব্যের যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে হবে অনিকেতকে, তা না হলে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। যদিও ডব্লিউজেডিএফ-কে কোনও জবাব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করছেন না অনিকেত।
অনিকেত তাঁর চিঠিতে দাবি করেছিলেন, তিনি ডব্লিউজেডিএফের বোর্ড অফ ট্রাস্টের সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন। কিন্তু ফ্রন্টের তরফে সেই দাবিকেই খারিজ করা হয়েছে। চিঠিতে জানানো হয়েছে, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে তৈরি হওয়া ওই ট্রাস্ট এবং তার পদগুলি ছিল ‘অস্থায়ী’ ও ‘অগণতান্ত্রিক’। ফলে সভাপতি পদ থেকে ইস্তফার উল্লেখ করে অনিকেত কার্যত এক ‘মূল্যহীন ও অগণতান্ত্রিক কাঠামোকে’ মান্যতা দিতে চেয়েছেন বলেই অভিযোগ। চিঠিতে কড়া ভাষায় জানানো হয়েছে, তাঁরা কোনও অস্থায়ী বডির তথাকথিত পদাধিকারীকে নয়, বরং তাঁদের ‘সহযোদ্ধা অনিকেত মাহাতো’-কেই এই চিঠি লিখছেন। অনিকেতের সিদ্ধান্তকে ‘হঠকারী, ব্যক্তিস্বার্থসর্বস্ব ও অবিবেচক’ বলেও আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
ফ্রন্টের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, অগণতান্ত্রিক ট্রাস্ট ভেঙে গণতান্ত্রিক ডব্লিউজেডিএফ গঠনের প্রক্রিয়ায় অনিকেত নিজেও যুক্ত ছিলেন এবং প্রায় সব সিদ্ধান্তেই সহমত প্রকাশ করেছিলেন। তা হলে নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগোনোর সময় হঠাৎ করে আলোচনার বাইরে গিয়ে কেন তিনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন— সেই প্রশ্নই তোলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, আরজি কর আন্দোলনের পর অনিকেত-সহ প্রথম সারির কয়েক জন জুনিয়র ডাক্তার পোস্টিং সংক্রান্ত সমস্যায় পড়েন। অভিযোগ ওঠে, প্রতিহিংসামূলক ভাবে তাঁদের কাঙ্ক্ষিত পোস্টিং না দিয়ে দূরবর্তী জায়গায় বদলি করা হয়। এই নিয়ে আইনি লড়াইয়ে নামেন অনিকেত। দেবাশিস ও আসফাকুল্লাও সমস্যায় পড়লেও ফ্রন্টের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে তাঁরা পরিবর্তিত পোস্টিংয়েই কাজে যোগ দেন। অনিকেত অবশ্য লড়াই চালিয়ে যান। কলকাতা হাইকোর্ট ও পরে সুপ্রিম কোর্টের রায় তাঁর পক্ষেই যায়। আরজি কর হাসপাতালেই পোস্টিংয়ের নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। যদিও অনিকেতের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশের পরেও তাঁকে কাজে যোগ দিতে দেওয়া হয়নি।
ইস্তফার চিঠিতে সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ‘মাথা নত না করার’ বার্তা দেন অনিকেত। তবে ফ্রন্টের দাবি, ওই বক্তব্য ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’। দেবাশিস ও আসফাকুল্লা কেন কাজে যোগ দিয়েছিলেন, তা অনিকেত ভাল করেই জানতেন। ‘বিপ্লবী ডাক্তারেরা গ্রামে যেতে চান না’— এই ধারণা ভাঙতেই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি ফ্রন্টের। জেনেশুনে এমন মন্তব্য করায় তারা ‘হতবাক’ বলেও জানিয়েছে। তাই অনিকেতকে হয় তার ব্যাখ্যা দিতে হবে, নচেৎ ক্ষমা চাইতে হবে। আলোচনার দরজা এখনও খোলা— এমন কথাও বলা হয়েছে চিঠিতে। ওই চিঠিতে কারও আলাদা সই নেই।
তবে অনিকেত নিজের অবস্থানে অনড়। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “বর্তমান ডব্লিউজেডিএফ নেতৃত্ব ব্যক্তিগত ভাবে মেল করে এবং সংবাদমাধ্যমে এই চিঠি পাঠিয়েছে। ব্যবহৃত ভাষা ও অভিযোগের উত্তর দেওয়া আমি সমীচীন মনে করি না। সহযোদ্ধাদের কাছ থেকে এই ভাষা প্রত্যাশা করিনি।”
এর মধ্যেই পরিস্থিতি আরও জটিল। আরজি কর রেসিডেন্ট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, আপাতত তারা ডব্লিউজেডিএফ থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করছে। আগামী ৫ জানুয়ারি রাজ্যের সব মেডিক্যাল কলেজের রেসিডেন্ট ডক্টর্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তার আগে পর্যন্ত সমর্থন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
সব মিলিয়ে, আরজি কর আন্দোলনের উত্তরপর্বে জুনিয়র ডাক্তারদের ঐক্য যে বড়সড় পরীক্ষার মুখে, তা স্পষ্ট।