দিলীপের সংযোজন, বাংলার উন্নয়নের দাবিতে বিজেপির সংগ্রাম চলছেই। অতীতেও দলের কর্মীরা আত্মবলিদানের জন্য প্রস্তুত ছিলেন, ভবিষ্যতেও থাকবেন। রাজ্যে পরিবর্তন ঘটিয়েই ছাড়বে বিজেপি - এই বার্তাই দেন তিনি।
.jpeg.webp)
দিলীপ ঘোষ
শেষ আপডেট: 7 January 2026 11:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের আগে আসে, ভোট মিটলেই উধাও - বিজেপিকে (BJP) ‘পরিযায়ী পাখি’ (Migrant Bird) বলে কটাক্ষ করা নতুন কিছু নয় তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) কাছে। সেই সুরেই মঙ্গলবার রামপুরহাটের সভা (Rampurhat Sabha) থেকে বিজেপিকে নিশানা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee)। স্পষ্ট বার্তা দেন, রাজ্যে বিজেপিকে যেন কোনওভাবেই মাথাচাড়া দিতে না দেওয়া হয়।
এর ঠিক একদিন পরই সেই মন্তব্যের পাল্টা দিলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ (BJP Leader Dilip Ghosh)। দীর্ঘদিন কিছুটা ব্যাকফুটে থাকার পর বিধানসভা ভোটের (West Bengal Polls 2026) মুখে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি। আর পুরনো ছন্দেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাচ্ছেন।
অভিষেকের বক্তব্যের জবাবে দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, “মাথাচাড়া দিতে দেব না - এই কথা বলতেই বলতেই বিজেপি আজ রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল (Opposition Party) হয়েছে।” তাঁর দাবি, শুরু থেকেই বিজেপির নেতা-কর্মীদের নানা সংঘর্ষ, হামলা এমনকি খুন হতে হয়েছে। তবু লড়াই থামেনি, থামবেও না।
দিলীপের সংযোজন, বাংলার উন্নয়নের দাবিতে বিজেপির সংগ্রাম চলছেই। অতীতেও দলের কর্মীরা আত্মবলিদানের জন্য প্রস্তুত ছিলেন, ভবিষ্যতেও থাকবেন। রাজ্যে পরিবর্তন ঘটিয়েই ছাড়বে বিজেপি - এই বার্তাই দেন তিনি।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) রাজ্যে এসে দিলীপ ঘোষকে বৈঠকে ডাকেন। পরে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumder) ও শমীক ভট্টাচার্যের (Shamik Bhattacharya) সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজেও অংশ নেন তিনি। এর মধ্যেই জনসভা শুরু করে দিয়েছেন দিলীপ। ভোটের আর হাতে গোনা কয়েক মাস বাকি থাকায় আসন সংখ্যা নিয়ে রাজনৈতিক দাবিদাওয়া শুরু হওয়াটাই স্বাভাবিক।
অমিত শাহ যেখানে ২০০-র বেশি আসনের (200+ Seats) লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন, সেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তৃণমূল জিতবে ২৫০-র বেশি আসন। এই প্রসঙ্গে দিলীপের কটাক্ষ, লোকসভা ভোটের (Loksabha Election 2024) সময় তৃণমূল বলেছিল ‘৪২-এ ৪২’। ফল কী হয়েছে, তা সকলেরই জানা। তাঁর মতে, এবার ২৫০ কেন, চাইলে ২৯৪ আসনের দাবিও করতে পারে তৃণমূল - কিন্তু তাতে বাস্তব বদলাবে না।
দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, বাংলার মানুষ অনেক এগিয়ে গিয়েছেন, আর পিছনে তাকাতে চান না। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোট কৌশল নিয়েও তোপ দাগেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, মানুষের সামনে বলার মতো কোনও ইস্যু নেই শাসক দলের। মুখ দেখানোর জায়গাও নেই। পুরনো আস্তাকুঁড় থেকে নেতাদের তুলে এনে ভোট বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু তাতে কোনও লাভ হবে না।
এসআইআর (SIR in West Bengal) ইস্যুতেও তৃণমূলকে খোঁচা দেন দিলীপ। তাঁর দাবি, এক সময় বলা হয়েছিল এসআইআর করতে দেওয়া হবে না, পরে বলা হয় কোনও নাম বাদ যাবে না। অথচ বাস্তবে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। নির্বাচন কমিশন আসলে টাইট দিয়েছে।