
শেষ আপডেট: 31 March 2024 12:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: আবার বিতর্কে দিলীপ ঘোষ। এই বর্ধমানেই গরুর দুধে সোনা আছে বলে মন্তব্য করেছিলেন। এবার রবিবার চা চক্রে বেরিয়ে রাজা ভেবে রাজার এক আত্মীয়ের মূর্তির গলায় মালা পরালেন। দিলেন জয়ধ্বনিও।
কী ঘটেছে? এদিন সকালে চা চক্রে বেরিয়ে ছিলেন বর্ধমান-দুর্গাপুরের বিজেপি প্রার্থী। জনসংযোগ করতে ক্রিকেটও খেলেন। বর্ধমানের মহারাজ উদয়চাঁদের প্রতিকৃতিতে মালা দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু তিনি মালা পরান বনবিহারী কাপুরের মূর্তিতে। মালা দিয়ে 'মহারাজ উদয়চাঁদ অমর রহে' স্লোগান দেন। দিলীপ ঘোষকে ভুল ধরিয়ে দিলে তিনি বলেন, 'এখানে আবার কাপুর এল কোথা থেকে?' এরপরেই শুরু হয় বিতর্ক।
তৃণমূলের বক্তব্য, উনি মেদিনীপুরের মানুষ। বর্ধমানের ইতিহাস সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, "যিনি গরুর দুধে সোনা খুঁজে পান তাঁর কাছে এটাই স্বাভাবিক। ওঁরা ইতিহাস ভূগোল জানেন না। মণীষীদের চেনেন না। এইসব ভুল আরও সহ্য করতে হবে বর্ধমানের মানুষদের।"
ইতিহাসের গবেষক সর্বজিৎ যশ জানান, বনবিহারী কাপুর জ্যোতিষী ছিলেন। পূর্ববর্ধমানের গলসির কাছে তাঁর বাড়ি ছিল। তাঁর পুত্র বিজয়চাঁদকে দেখে রাজা আফতাবচাঁদের মহিষীর দত্তক নেওয়ার ইচ্ছে জাগে। বিনিময়ে রাজ এস্টেট দেখাশুনার দায়িত্ব পান বনবিহারী।
বিজয়চাঁদের জন্ম ১৮৮১ খ্রিস্টাব্দে। আফতাবচাঁদ মারা গেলে ১৮৮৭ সালে তাঁকে রাজা হিসেবে বসান হয়। তখন তিনি নাবালক। এই সময় রাজবাড়ির এস্টেট দেখাশুনা করতেন বনবিহারী। তাঁর সম্মানে রাজবাড়ি চত্বরে একটি মূর্তি বসান হয়। তাঁর নামে বর্ধমানের প্রথম ফুটবল টুর্নামেন্ট চালু হয়।
১৯৪৩ সালে রাজা হিসেবে অভিষেক হয় বিজয়চাঁদের পুত্র উদয়চাঁদের। রক্তের সম্পর্কে বনবিহারী কাপুর তাঁর দাদু। যার সঙ্গে দিলীপ ঘোষ উদয়চাঁদকে গুলিয়েছেন।