দিলীপ বলেন, “এখনও পর্যন্ত কোনও আমন্ত্রণ পাইনি। তবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তো শুনতেই হবে। হয়তো দর্শকাসনে বসে শুনব। দেখা যাক, সময় আছে এখনও।”

দিলীপ ঘোষ।
শেষ আপডেট: 17 July 2025 11:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্গাপুরে (Durgapur) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভা ঘিরে (Modi's meeting) ফের একবার বিজেপির অন্দরের মনোমালিন্য প্রকাশ্যে। সভায় উপস্থিত থাকলেও মঞ্চে জায়গা পাচ্ছেন না (Audience) বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। সংবাদমাধ্যমকে নিজেই জানালেন সে কথা। গলায় অভিমান, ক্ষোভের সুর স্পষ্ট।
১৮ জুলাই, বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সভায় দিলীপ ঘোষ আমন্ত্রিত হলেও মঞ্চে ওঠার বিষয়ে নিশ্চিত নন তিনি। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নে দিলীপ বলেন, “এখনও পর্যন্ত কোনও আমন্ত্রণ পাইনি। তবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তো শুনতেই হবে। হয়তো দর্শকাসনে বসে শুনব। দেখা যাক, সময় আছে এখনও।”
দিলীপের এই মন্তব্যেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। রাজ্য রাজনীতিতে দিলীপ ঘোষ একাধিকবার দলীয় সিদ্ধান্তে উপেক্ষিত হয়েছেন, এমন অভিযোগ বহুদিনের। এর আগেও আলিপুরদুয়ারের জনসভা বা কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে অমিত শাহের সভা থেকেও তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। দিল্লিতে দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে চেয়ার না পাওয়া নিয়েও প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছিলেন তিনি।
রাজ্য সভাপতির পদে শমীক ভট্টাচার্য বসার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও, মোদীর সভায় দিলীপ ঘোষের মঞ্চের বাইরে থাকা ফের নতুন করে জল্পনার জন্ম দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে দিলীপ নিজে স্পষ্ট করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সভায় তিনি যাচ্ছেন দলের কর্মী-সমর্থকদের অনুরোধেই। যদিও তার আগেই বঙ্গ বিজেপির অন্দরমহলে প্রশ্ন উঠেছে, দিলীপ ঘোষকে কি তাহলে ক্রমেই দলের ‘পিছনের সারিতে’ ঠেলে দেওয়া হচ্ছে?
অন্যদিকে, বাংলার বাইরে বাঙালিদের উপর হামলা ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিবাদ মিছিল নিয়েও মুখ খুলেছেন দিলীপ। কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “যাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে, তারা নিজেরাই বলেছে তারা বাংলাদেশের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি তবে তাদের দায়িত্ব নিচ্ছেন? বাইরে বাংলার লোককে যদি ‘বাংলাদেশি’ বলা হয়, তা মমতার জন্যই। মুর্শিদাবাদে তাঁর লোকেরাই নকল আধার, ভোটার কার্ড বানিয়ে দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে দিচ্ছে। বাংলার বদনাম ওদের কারণেই।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, একদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সভায় প্রাক্তন রাজ্য সভাপতিকে মঞ্চে না রাখার সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে দিলীপ ঘোষের স্পষ্ট ক্ষোভ— এই দুই মিলিয়ে বঙ্গ বিজেপির অন্তর্কলহ ফের সামনে এল। যদিও এ ব্যাপারে রাজ্য নেতৃত্বর কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।