রাজ্যে মুসলিম ভোটব্যাঙ্ককে সামনে রেখেই নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের পরিকল্পনা চলছে বলে মনে করছেন দিলীপ।

দিলীপ ঘোষ
শেষ আপডেট: 24 July 2025 17:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পৃথক দল তৈরির পথে হাঁটতে চলেছেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। ইতিমধ্যেই এই ঘোষণা করেছেন তিনি নিজেই। স্বাভাবিকভাবেই তাই রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ। তবে এই বিষয়টি নিয়ে অন্যরকম সন্দেহ করছেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তাঁর অনুমান, সবকিছুর 'মাস্টারমাইন্ড' মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
রাজ্যে মুসলিম ভোটব্যাঙ্ককে সামনে রেখেই নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের পরিকল্পনা চলছে বলে মনে করছেন দিলীপ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানা করে তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে সচেতনভাবেই মুসলিম সমাজকে একটি সংগঠিত রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করতে চাইছেন তিনি।
হুমায়ুন কবীরের নতুন দল ঘোষণা ইস্যুতে দিলীপ বলছেন, ''ওঁকে কেউ কোনও দিন ধরে রাখতে পারেনি। পশ্চিমবঙ্গে যত দল আছে, সব করা হয়ে গেছে, তাই এখন নতুন দল করছে।'' বিজেপির নেতার সন্দেহ, এটা শুধু হুমায়ুনের ইচ্ছা নয়, তৃণমূলও চায়! দিলীপের অনুমান, ''পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে ২৬-এর নির্বাচনে (WB 26 Polls) যদি কোনও মুসলিম উপ মুখ্যমন্ত্রী (Deputy CM) হয় তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।''
আরও বিস্ফোরক দাবি করেছেন বিজেপি নেতা। তাঁর সাফ বক্তব্য, আইএসএফ বা নতুন কোনও দলের ১০০টা মুসলিম সিট জেতার মতো পরিস্থিতি থাকলে তারা দাবি করবে উপ মুখ্যমন্ত্রী পদের। পরেরবার হয়তো বলবে, যে সংখ্যালঘুকে মুখ্যমন্ত্রী করবে তাকে তারা সাপোর্ট করবেন। দিলীপের মতে, পুরো বিষয়টি সম্পর্কে অবগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই ক্ষেত্রে অতীতের সিপিএম সরকারকেও বিঁধেছেন দিলীপ। বক্তব্য, ''বামপন্থীরা যে রাস্তা করে দিয়েছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই রাস্তা ধরে এগিয়ে বাংলাকে দ্বিতীয় বাংলাদেশ করার দিকে এগোচ্ছেন। দেশ ভাগের আগের পরিস্থিতি আবার তৈরি হচ্ছে রাজ্যে। সব কিছুর মাস্টারমাইন্ড উনিই।''
দ্য ওয়ালের তরফে হুমায়ুনকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, "বিজেপিতে দিলীপ ঘোষের গ্রহণযোগ্যতা আছে। বাংলার মানুষের কাছে তাঁর যত টুকু করে দেখানোর তিনি দেখিয়েছেন। আমাদের নিয়ে চর্চা করার দরকার নেই তাঁর। আমার রাজনৈতিক জীবন দিলীপ ঘোষের অনেক আগে থেকে। ৪৩ বছর ধরে আমি রাজনীতি করি। আর ওঁর আট-দশ বছরের। যাদের নাবালক, শিশু বলা হয়। দিলীপ ঘোষ আমার রাজনীতিতে বাচ্চা ছেলে, শিশু।"
তৃণমূল বিধায়ক আরও বলেন, "আমার প্রশ্ন ওঁর কাছে, হঠাৎ মুসলিমদের জন্য দরদ উথলে যাচ্ছে? অথচ যখন ছ'বছরের রাজ্য সভাপতি ছিলেন। আমি বিজয়বর্গীয়র হাত ধরে বিজেপিতে গেছিলাম বলে উনি পদে পদে মুসলিমদের গাল দিতেন, তাড়িয়ে দেব বলতেন। এখন হঠাৎ দরদ উথলে উঠছে কেন? উনি নিজের দলেই পাত্তা পান না। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এলে ডাক পান না, তাঁর উপদেশ শুনতে হবে আমাকে?"