দিঘার নতুন জগন্নাথ মন্দির (Digha Jagannath Mandir) উদ্বোধনের পর থেকেই সমুদ্র সৈকত শহরে যেন পর্যটকদের ঢল নেমেছে। একদিকে ধর্মীয় আবেগ, অন্যদিকে সমুদ্র-সৈকতের টান— দুয়ের মিশেলে দিঘায় ভিড় ক্রমেই বেড়ে চলেছে।

দিঘা জগন্নাথ মন্দির ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 17 June 2025 08:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিঘার নতুন জগন্নাথ মন্দির (Digha Jagannath Mandir) উদ্বোধনের পর থেকেই সমুদ্র সৈকত শহরে যেন পর্যটকদের ঢল নেমেছে। একদিকে ধর্মীয় আবেগ, অন্যদিকে সমুদ্র-সৈকতের টান— দুয়ের মিশেলে দিঘায় ভিড় ক্রমেই বেড়ে চলেছে। আর এই ভিড়কেই পুঁজি করে একশ্রেণির হোটেল মালিক, অটো-টোটো চালক এবং দোকানদারেরা বাড়তি রোজগারের লোভে লাগামহীন দাম (Digha hotel rate) বাড়িয়ে চলেছে বলে অভিযোগ।
সাম্প্রতিক সময়ে বহু পর্যটক অভিযোগ করেছেন, আগে থেকে অগ্রিম বুকিং (digha hotel booking) করেও হোটেলে গিয়ে রুম পাচ্ছেন না। বুকিং থাকা সত্ত্বেও বেশি ভাড়ার লোভে অন্যদের ঘর দিয়ে দিচ্ছেন হোটেল কর্তৃপক্ষ। রুমভাড়া এক লাফে কখনও দ্বিগুণ, কখনও তারও বেশি হয়ে যাচ্ছে।
শুধু হোটেলই নয়, অটো-টোটোতেও চলছে একই খেলা। আগে যেখানে ওল্ড দিঘা থেকে নিউ দিঘা পৌঁছতে টোটোতে ভাড়া লাগত ২০ টাকা, এখন সেখানে ১০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। ভিড়ের মরশুমে অনেক চালক একদিনে কয়েকগুণ বেশি উপার্জনের লোভে যাত্রীদের সঙ্গে এই আচরণ করছেন বলে অভিযোগ।
এই পরিস্থিতিতে কড়া অবস্থান নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, দিঘার প্রতিটি হোটেলের রেটকার্ড দৃশ্যমান স্থানে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। এই নির্দেশ অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজি জানিয়েছেন, অতিরিক্ত জেলাশাসক ইতিমধ্যেই হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বৈঠক করে এই নির্দেশের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি পর্যটকদের সুবিধার্থে একটি হেল্পলাইন নম্বর চালুর পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। কোথাও সমস্যায় পড়লে সেই নম্বরে ফোন করলেই পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।
এদিকে দিঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনও নিজেদের সদস্যদের মধ্যে কড়া বার্তা দিয়েছে। সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী জানিয়েছেন, আগামী ২২ জুনের মধ্যে প্রত্যেক হোটেলকে তাদের রেটকার্ড বোর্ডে ঝুলিয়ে দিতে হবে এবং সেই তালিকা সংগঠনের দফতরে জমা দিতে হবে। তাঁর কথায়, "কয়েকটি হোটেলের অপেশাদার ব্যবহারে দীঘার সুনাম নষ্ট হচ্ছে। আমরা চাই, পর্যটকদের হয়রানি হলে সঙ্গে সঙ্গে থানায় অভিযোগ জানানো হোক। প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিলে এই প্রবণতা দ্রুত বন্ধ হবে।"
ডিএসডিএ অফিস লাগোয়া এক হোটেল মালিক সুভাষ শীট অবশ্য বলছেন, মন্দির উদ্বোধনের আগে এসি রুম ১৩০০-১৪০০ টাকায় মিলত, কিন্তু এখন সেই একই ঘরের ভাড়া ১৭০০-১৮০০ টাকা হয়েছে। রথযাত্রার সময় তো একই রুম তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায় বুকিং হচ্ছে।
এই অস্বাভাবিক দামবৃদ্ধি ও অনিয়ম নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। পর্যটকদের অভিজ্ঞতার কাহিনি ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। প্রশাসনের কড়া অবস্থানের ফলে এবার হয়তো দিঘায় পর্যটক ঠকানোর এই প্রবণতায় কিছুটা লাগাম পড়বে বলেই আশা করছেন সাধারণ পর্যটকরা।