তবে অনুব্রত নিজে যা-ই দাবি করুন না কেন, তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ যে আর আগের মতো নেই, তাতে দলেই অনেকেই একমত।

অনুব্রত মণ্ডল।
শেষ আপডেট: 21 July 2025 20:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূল কংগ্রেসের শহিদ দিবসের ( TMC Martyrs' Rally) মহাসমাবেশে দলের সব স্তরের নেতাদের উপস্থিতি ছিল বাধ্যতামূলক। কিন্তু সেই সভায় আদৌ উপস্থিত ছিলেন কি অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)? দলেই উঠছে প্রশ্ন।
সোমবার ধর্মতলায় দলের ঐতিহ্যবাহী সমাবেশের দিন অনুব্রতের উপস্থিতি নিয়ে জল্পনা চরমে। দলীয় নেতা-কর্মীদের বড় অংশই বলছেন, তাঁরা কোথাও কেষ্ট’দাকে দেখেননি, না মঞ্চে, না দর্শকাসনে, না মঞ্চের পিছনে। এমনকি মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তাঁর ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ কাজল শেখও। তিনিও জানান, কেষ্টকে দেখেননি।
অন্যদিকে, নিজে অবশ্য সমাবেশে যাওয়ার দাবি করেছেন অনুব্রত মণ্ডল। সংবাদমাধ্যমে তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমি গগন সরকার আর নারায়ণ হালদারের সঙ্গে মিছিল করে গিয়েছিলাম। মঞ্চেও উঠেছিলাম। পরে খুব গরম লাগছিল, তাই মঞ্চের পিছনের একটা অস্থায়ী শিবিরে বসেছিলাম।’’
কিন্তু তৃণমূল ছাত্র পরিষদ, যুব সংগঠন এবং স্বেচ্ছাসেবকদের কেউই কেষ্টকে দেখার দাবি করেননি। মঞ্চের দায়িত্বে থাকা তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য, সার্থক বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপ বক্সীরা কেউই তাঁকে দেখতে পাননি বলেই জানিয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে দলের একাংশের সন্দেহ, আদৌ কি কেষ্ট সমাবেশে এসেছিলেন? কেউ কেউ মনে করছেন, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা না করতে পেরে আগের দিনই তিনি অপমানবোধ করেছিলেন। আবার কেউ বলছেন, রাজনীতিতে নিজের জায়গা হারিয়ে অনুব্রত নিজেই নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন।
উল্লেখযোগ্য, অনুব্রতের অনুপস্থিতিতেই বীরভূমে রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন কাজল শেখ। জেলা সভাপতির পদ কেষ্টর হাতছাড়া হওয়ার পর তিনিই এখন জেলার অন্যতম মুখ। ফলে এক মঞ্চে কেষ্ট এবং কাজল—তা কি আদৌ সম্ভব?
দলের এক প্রবীণ নেতা বলেন, ‘‘কেষ্টদা সভায় গিয়েছিলেন কি না নিশ্চিত নই। তবে রবিবার যদি তিনি দিদির সঙ্গে দেখা না করেই ফিরে এসে থাকেন, তবে তা যথেষ্ট অপমানজনক। কাজলের উপস্থিতিও তাঁর আসার পথে বাধা হয়ে থাকতে পারে।’’
সব মিলিয়ে, তৃণমূলের শহিদ দিবসের সমাবেশ ঘিরে এবার অনুব্রতের উপস্থিতি না-থাকা নিয়েই দলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। তবে অনুব্রত নিজে যা-ই দাবি করুন না কেন, তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ যে আর আগের মতো নেই, তাতে দলেই অনেকেই একমত।