বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করতে এসেছিলেন পদ্মশ্রী করিমুল হক। সেখানেই ছিলানের সঙ্গে দেখা হয় করিমুলের। তাঁর মনোকষ্টের কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে নিজের পকেট থেকে একটি ছোট গীতা বের করে ছিলানের হাতে তুলে দেন করিমুল।

শেষ আপডেট: 30 October 2025 12:02
দ্য় ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: ৫ অক্টোবরের রাত। অবিরাম বৃষ্টি। জলঢাকা নদীর বাঁধ ভেঙে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল সব। চোখের সামনে জল যখন হুহু করে বাড়ছে তখন প্রাণ বাঁচাতে উঠে পড়েন একটি কাঁঠাল গাছে। পরে ঘরবাড়ি খুইয়ে আরও অনেকের মতো ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন ধূপগুড়ি ব্লকের গধেয়ারকুটি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা ছিলানচন্দ্র রায়।
বন্যায় তাঁর ঘরে থাকা টাকা পয়সা সহ যাবতীয় সামগ্রী ভেসে যায়। একইসঙ্গে ভেসে যায় তাঁর সর্বক্ষণের গীতাটিও। প্রতিদিন গীতাপাঠ করেন। সেই গীতা খুইয়ে মন খারাপ হয়ে যায় ছিলানের। জানালেন, তাঁর সংগ্রহের গীতা-ভাগবত-মহাভারত সব ভেসে গেছে জলে। অনেক কষ্টে সংগ্রহ করা এই সমস্ত বই আর সংগ্রহ করতে পারবেন কিনা জানেন না। তবে গীতা হারিয়ে ফেলায় বড্ড মন খারাপ হয় তাঁর।
বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করতে এসেছিলেন পদ্মশ্রী করিমুল হক। সেখানেই ছিলানের সঙ্গে দেখা হয় করিমুলের। তাঁর মনোকষ্টের কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে নিজের পকেট থেকে একটি ছোট গীতা বের করে ছিলানের হাতে তুলে দেন করিমুল। আচমকা এই ঘটনায় আপ্লুত হয়ে পড়েন ছিলান। বলেন, "করিমুল যে এত বড় মনের মানুষ, তা আমার জানা ছিল না। কবিতায় পড়েছি 'আমরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু মুসলমান,মুসলিম তার নয়ন মনি,হিন্দু তাহার প্রাণ।' এতো সত্যিই ঠিক কথা। পবিত্র কার্তিক মাসে করিমুল হকের হাতে গীতা পেয়ে আমি যে কী খুশি হয়েছি তা ভাষায় বলে বোঝাতে পারব না।"
অ্যাম্বুল্যান্স দাদা করিমুল হক তাঁকে কথা দেন পরেরবার আসার সময় তিনি ছিলানের জন্য বড় গীতা ও ভাগবত নিয়ে আসবেন। এই আশ্বাস শুনে আত্মহারা হয়ে পড়েন ছিলান। করিমুলেরও তখন চোখে জল। গধেয়ারকুটির মানুষজন তখন দু-চোখ ভরে দেখছেন আবেগে ভেসে যাওয়া করিমুল আর ছিলানকে।
প্রতিবছর কার্তিক মাস পড়লেই খোল-করতাল নিয়ে ভোরবেলা সংকীর্তনে বের হন ছিলান। ছোট একটি দলও রয়েছে তাঁর। কিন্তু এবার খোল করতালও ভেসে গেছে বন্য়ার জলে। হারমোনিয়াম খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে ঘরে। কিন্তু তাই বলে কি কার্তিকের ভোর নষ্ট করা যায়! এলাকার মানুষ সবারই যে এক অবস্থা। তাই হাতে তাল রেখেই তাঁরা নামগান করছেন। ভোরবেলা সুরেলা হচ্ছে গ্রামের মেঠো পথ।