দ্য ওয়াল ব্যুরো : উন্নত দেশগুলিই (Developed countries) বেশি প্রাকৃতিক শক্তি ব্যবহার করে। তাদেরই দ্রুত 'নেট জিরো এমিসন'-এ পৌঁছতে হবে। স্কটল্যান্ডে রাষ্ট্রপুঞ্জের পরিবেশ দূষণ রোধ কনফারেন্সের আগে এমনই মন্তব্য করল ভারত। 'নেট জিরো এমিসন' বলতে বোঝায় কোনও দেশের কার্বন ডাই অক্সাইড ব্যবহার ও কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনের মধ্যে একটা ভারসাম্য তৈরি করা। রাষ্ট্রপুঞ্জের ক্লাইমেট চেঞ্জ কনফারেন্সের নাম দেওয়া হয়েছে 'কপ টোয়েন্টি সিক্স'। সেখানে ভারতের প্রতিনিধি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তিনি বলেন, পরিবেশ সম্মেলনে উন্নতিশীল দেশগুলির হয়ে কথা বলবে ভারত।
পীযূষ গোয়েলের কথায়, "উন্নত দেশগুলি সবচেয়ে বেশি শক্তি ব্যবহার করে। তাদেরই দূষণ কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে আগে। আমাদের নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ওপরে জোর দিতে হবে।" পরে তিনি বলেন, "ভারত চেষ্টা করবে যাতে উন্নতিশীল দেশগুলির স্বার্থরক্ষা করা যায়। এই প্রথমবার জি-২০ গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলি স্বীকার করেছে, দূষণ কমাতে হলে শক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।"
জি-২০ বৈঠকের পরে রোম ডিক্লারেশন প্রকাশিত হয়। তাতে বলা হয়, যে দেশগুলিতে দূষণ সবচেয়ে বেশি, তাদের দূষণ কমাতে সাহায্য করা হবে। জি-২০ গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলি যৌথভাবে ১০ হাজার কোটি ডলারের তহবিল তৈরি করবে। তার সাহায্যে দরিদ্র দেশগুলিকে দূষণহীন প্রযুক্তি ব্যবহারে সাহায্য করা হবে।
'কপ টোয়েন্টি সিক্সের' সভাপতি অলোক শর্মা বলেন, "বিশ্ব উষ্ণায়ন ১.৫ ডিগ্রির মধ্যে বেঁধে রাখার চেষ্টা হচ্ছে। এই সম্মলেনেই স্থির হবে, আমরা তা পারব কিনা। এরপরে আর সুযোগ মিলবে না।"
গ্লাসগোতে রাষ্ট্রপুঞ্জের পরিবেশ সম্মেলন চলবে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত। অলোক শর্মা বলেন, "আমরা সকলেই জানি, পৃথিবীর জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে। তাতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।" বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, পরিবেশ দূষণজনিত বিপর্যয় কমাতে ব্যবস্থা নিতে হবে আগামী ১০ বছরের মধ্যে। এর আগে ২০১৫ সালে প্যারিস সম্মেলনেও স্থির হয়েছিল, বিশ্ব উষ্ণায়ন দুই ডিগ্রির নীচে বেঁধে রাখতে হবে। সেই লক্ষ্যমাত্রা নিয়েই শুরু হচ্ছে 'কপ-২৬'। কীভাবে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন কমানো যায়, তা নিয়ে এই সম্মেলনে আলোচনা হবে। পরিবেশ দূষণ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বার বার সতর্ক করা সত্ত্বেও কার্বন ডাই অক্সাইডের নির্গমন খুব বেশি কমানো যায়নি।
গত অগাস্টে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পরিবেশ বিজ্ঞানীরা 'কোড রেড' নামে এক রিপোর্ট প্রকাশ করেন। তাতে বলা হয়, ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রির সীমা পেরিয়ে যেতে পারে। মাত্র তিনবছর আগেই ভাবা হয়েছিল, বিশ্ব উষ্ণায়ন ১.৫ ডিগ্রি পেরোতে সময় লাগবে আরও ১০ বছর বেশি।