দাবার বোর্ডের ৬৪ খোপ। সেখানে লড়াই রাজায় রাজায়। যুদ্ধ কৌশল না জানা থাকলে হার অনিবার্য। অন্যদিকে প্রখর উপস্থিত বুদ্ধি আর মেধার জোর থাকলে বিরোধী পক্ষ যতই শক্তিশালী হোক, চেকমেট বলা শুধুই সময়ের অপেক্ষা।

হাবড়ার শ্রীচৈতন্য কমার্স কলেজে দাবার বোর্ডে লড়াই শুরু করলেন পূর্বাঞ্চলের ন'টি রাজ্যের দৃষ্টিহীন ৭০ জন দাবাড়ু।
শেষ আপডেট: 16 October 2025 20:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দাবার বোর্ডের ৬৪ খোপ। সেখানে লড়াই রাজায় রাজায়। যুদ্ধ কৌশল না জানা থাকলে হার অনিবার্য। অন্যদিকে প্রখর উপস্থিত বুদ্ধি আর মেধার জোর থাকলে বিরোধী পক্ষ যতই শক্তিশালী হোক, চেকমেট বলা শুধুই সময়ের অপেক্ষা। এই জন্যই ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাবার বোর্ডের দিকে তাকিয়ে সৈন্যসামন্তের গতিবিধির উপর নজর রাখেন দুঁদে দাবাড়ুরা।
কিন্তু দৃষ্টিশক্তিই যাঁদের নেই, দাবার বোর্ডে তাঁরাও চাল দিচ্ছেন। বুদ্ধিমত্তায় কাত করছেন অন্য পক্ষকে। বৃহস্পতিবার থেকে হাবড়ার শ্রীচৈতন্য কমার্স কলেজে দাবার বোর্ডে লড়াই শুরু করলেন পূর্বাঞ্চলের ন'টি রাজ্যের ৭০ জন দাবাড়ু। পূর্বাঞ্চলের ন'টি রাজ্য থেকে বাছাই পর্বে নির্বাচিত হয়েছেন প্রতিযোগীরা। এবার লড়াই জাতীয় স্তরে খেলার জন্য। অল ইন্ডিয়া চেস ফেডারেশনের অনুরোধে এই প্রতিযোগিতার দায়িত্ব নিয়েছেন গুমা প্রেরণা অডিও লাইব্রেরি। দৃষ্টিহীন ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার জন্য অডিও বুক তৈরি করে ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছেন তাঁরা।
সংস্থার সভাপতি তারক চন্দ জানালেন, অল ইন্ডিয়া চেস ফেডারেশনের অনুরোধে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করছেন তাঁরা। কারণ যে ন'টি রাজ্য থেকে প্রতিযোগীরা এসেছেন, তার কোনও রাজ্যই এই জোনাল মিটের দায়িত্ব নিতে চায়নি। তারকবাবু বলেন, "চেস ফেডারেশন থেকে তাঁদের জানানো হয়, এই প্রতিযোগিতা না হলে জাতীয় স্তরে খেলার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে এই ৭০ জন প্রতিযোগীর। তাঁদের কথা ভেবেই খুব পরিশ্রমসাধ্য় হলেও এই দায়িত্ব মাথায় নিয়েছি আমরা। প্রতিযোগিতা সুষ্ঠুভাবে করার জন্য যে ফান্ড দরকার, তাও এখনও জোগাড় হয়নি।"
তারকবাবু নিজেও দৃষ্টিহীন। ছোটবেলা থেকে অভাব-সাংসারিক প্রতিকূলতা সবকিছুকে জয় করে এগোনোর চেষ্টা করেছেন। এখন পেশায় স্কুল শিক্ষক। লড়াইটা চলছে এখনও। তাই ৭০জন দাবাড়ুর ন্যাশনাল খেলার স্বপ্নের সরিক হওয়ার অনুরোধ ফেরাতে পারেননি। সহযোদ্ধাদের পাশে নিয়ে চ্য়ালেঞ্জটা নিয়েই ফেলেছেন।
দৃষ্টিহীনদের দাবার বোর্ডে ৬৪টাই ঘর। শুধু সাদা ঘরগুলি একটু উঁচু। কালো ঘরগুলি স্বাভাবিক। অন্যদিকে সাদা ঘুঁটিগুলি সামান্য উঁচু। কালো ঘুঁটি স্বাভাবিক। চোখে না দেখতে পেলেও শুধুমাত্র হাতের স্পর্শে ঘোড়ার আড়াই পা বা নৌকার আনুভূমিক চালে নির্ভুল কিস্তিমাত। তারকবাবু বলেন, "আমরা চেষ্টা করছি মেধার জোরে যাতে দাবার বোর্ডে জেনারেলদের সঙ্গে টক্কর দিতে পারেন দৃষ্টিহীন দাবাড়ুরা। এটা এমন কিছু অসম্ভবও নয়। জেনারেল হোক আর দৃষ্টিহীন, দাবার বোর্ডে তো সেই ৬৪টাই ঘর।"