
শেষ আপডেট: 12 December 2023 15:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাবালিকা মেয়েকে ধর্ষণ করেছিল এক যুবক। থানায় সেই ঘটনার অভিজিৎ জানাতে গিয়ে আরেক প্রস্থ নির্যাতনের শিকার হল ওই নাবালিকা। অভিযোগ, থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক এবং তদন্তকারী অফিসার সহ অন্যান্য আধিকারিকরা সকলের সামনে কিশোরীকে তার সঙ্গে হওয়া নির্যাতনের ঘটনার বর্ণনা দিতে বলেন। সেই ঘটনা শুনে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। তাঁর দাবি, পুরুষ আধিকারিকদের সামনে থানায় ডেকে ধর্ষিতাকে নির্যাতনের বর্ণনা দিতে বলার বিষয়টাই বেআইনি।
ঘটনাটি বাগনান থানা এলাকার। জানা গেছে, নিগৃহীতা কিশোরীকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করার জন্য বাগনান থানায় গিয়েছিল তার পরিবার। সেখানেই ওসি এবং তদন্তকারী আধিকারিক, যাঁরা দুজনেই পুরুষ, তাঁরা সকলের সামনেই ওই নাবালিকাকে তার সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের বর্ণনা দিতে বলেন। নাবালিকার পরিবারের দাবি, একেই চূড়ান্ত শারীরিক মানসিক নির্যাতনে বিপর্যস্ত হয়ে রয়েছে কিশোরী। তার মধ্যে থানায় অত্যাচারের বিবরণ দিতে গিয়ে একেবারে ভেঙে পড়েছে সে।
এর মধ্যেই অভিযুক্তের পরিবারের তরফে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে তাঁদের পরিবারকে। এই অবস্থায় থানার বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কিশোরীর পরিবার। তাতেই অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর, পুলিশ এটা করতে পারে না। তদন্তকারী আধিকারিক, ওসি সহ অন্য পুরুষ আধিকারিকদের সামনে বসিয়ে নির্যাতনের বর্ণনা দিতে বলার বিষয়টাই বেআইনি, দাবি তাঁর।
বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত নির্দেশ দিয়েছেন, ডিএসপি পদমর্যাদার একজন আধিকারিকের অধীনে এই ঘটনার তদন্ত করবে পুলিশ। এছাড়া অভিযুক্তের হুমকি দেওয়ার ঘটনার ক্ষেত্রে নিগৃহীতা ও তার পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টিও দেখতে হবে বাগনান থানার পুলিশকে। কোনও সমস্যা হলে নির্যাতিতার পরিবারকে সটান থানায় এসে সেকথা জানাতে বলেছেন বিচারপতি।