
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 30 November 2024 11:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রাজ্যে বাড়ছে ডেঙ্গির প্রকোপ। সূত্রের খবর, গত দু'দিনে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ডেঙ্গির সংক্রমণে এক স্বাস্থ্য কর্মী-সহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু তাই নয়, গত এক সপ্তাহে রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার।
এর আগে গত ৯ নভেম্বর কলকাতার জোড়াবাগান থানা এলাকার এক তরুণের মৃত্যু হয়েছিল ডেঙ্গির সংক্রমণে। তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্য দফতরের অন্দরেও। যেহারে মশার উপদ্রব বাড়ছে তাতে সংক্রমণের সংখ্যা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কাও করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, ডেঙ্গির সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে গড়িয়ার এক বাসিন্দার। তিনি স্বাস্থ্য দফতরের কর্মী। এছাড়াও বেলেঘাটা আইডিতে ডেঙ্গির সংক্রমণ নিয়ে ভর্তি থাকা উত্তর ২৪ পরগণা জেলার দুই রোগীরও মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে চলতি বছরে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২৮ হাজার। এর মধ্যে গত ১৯ নভেম্বর থেকে ২৫ নভেম্বর- এক সপ্তাহের মধ্যেই রাজ্যের প্রায় এক হাজার মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন।
ডেঙ্গির পাশাপাশি ম্যালেরিয়ার উপদ্রবও দেখা দিয়েছে রাজ্যের ৮টি জেলায়। এর মধ্যে রয়েছে আলিপুরদয়ার, মালদহ, দিনাজপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বিষ্ণপুর স্বাস্থ্য জেলা। ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়িয়েছে।
এর আগে পুজোর সময় ডেঙ্গির পাশাপাশি চিকুনগুনিয়া নিয়েও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, পুজোর আগে থেকেই মালদহ, মুর্শিদাবাদের একাংশে অজানা জ্বরের উপদ্রব দেখা দিয়েছিল। জ্বরের সঙ্গে মাথা ধরা, অসহ্য হাতে পায়ে ব্যথা। তবে প্রথমের দিকে অনেকেই এটিকে সাধারণ জ্বর ভেবেছিলেন। কিন্তু কারও কারও দু'সপ্তাহ পরেও জ্বর বা মাথা ব্যথার প্রকোপ না কমায় নতুন করে ব্লক স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে আক্রান্তদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তখনই জানা যায়, সাধারণ কোনও জ্বর নয়, গ্রামের অনেকেই চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত।
ফলে মশাবাহিত মারণ রোগের মোকাবিলায় শুরু হয়েছে মশা নিধন পর্ব। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জোর দেওয়া হয়েছে সচেতনতা প্রচারেও। বাড়ির আশেপাশে কোথাও জমা জল যেন না থাকে, হাত পা ঢাকা দেওয়া জামা পরার কথা বলা হচ্ছে। রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য কর্তারা।