
শেষ আপডেট: 26 February 2020 18:30
মৌজপুর এবং ব্রহ্মপুরীর মতো একই পরিস্থিতি কারওয়াল নগরে। সেখানে একটি টায়ার কারখানায় বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরিয়ে দেয় বলে জানা গেছে। আগুন ধরানো হয় বেশ কিছু গাড়িতেও। এ দিনও জাফরাবাদ, মৌজপুর-বাবরপুর, গোকুলপুরী, জোহরি এনক্লেভ এবং শিব বিহার মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে।উত্তর-পূর্ব দিল্লির সমস্ত সরকারি এবং বেসরকারি স্কুলও বন্ধ রাখা হয়েছে। একাধিক জায়গায় জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা।
চাঁদবাগে নর্দমার মধ্যে আইবি অফিসার অঙ্কিত শর্মার গুলিবিদ্ধ, ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধারের পর সেখানেও ক্ষোভের আগুন জ্বলেছে। গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তপ্ত চাঁদবাগ। অভিযোগের আঙুল স্থানীয় আপ বিধায়ক তাহির হুসেনের দিকে।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১৮টি এফআইআর হয়েছে। ১০৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতদের নিকটাত্মীয়কে দু’লক্ষ টাকা ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। হিংসার ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি করেছিলেন হর্ষ মান্দার। বিচারপতি এস মুরলীধর ও বিচারপতি তালওয়ান্ত সিংকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চে সেই আবেদনের শুনানি হয়। আবেদনে ক্ষতিপূরণ ও সেনা নামানোর কথাও বলা হয়েছিল। দিল্লি পুলিশের হয়ে হাইকোর্টে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেটা। তাঁকে বিচারপতিরা বলেন, তিনি যেন দিল্লির পুলিশ কমিশনারকে পরামর্শ দেন যে, উস্কানিমূলক কথা বলার জন্য তিন বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর করা হোক। ইতিমধ্যেই পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, উস্কানি ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের জন্য তিন বিজেপির নেতার বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার বেলা তিনটের মধ্যে এফআইআর দায়ের করতে হবে।
হিংসার জন্য দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল দায় চাপিয়েছেন বহিরাগতদের উপরে। বুধবার তিনি বলেন, “এই ঘটনার জন্য স্থানীয় লোকজন দায়ী নন।” বিধানসভায় তিনি বলেন, “দিল্লির মানুষ হিংসা চান না, ‘আম আদমি’ এই ঘটনা ঘটায়নি। এই ঘটনা ঘটিয়েছে সমাজবিরোধী, রাজনৈতিক ও উগ্রপন্থীরা।” দিল্লির হিন্দু ও মুসলমানরা কখনও লড়াই চান না বলেও বিধানসভায় বলেন মু্খ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।
দিল্লির হিংসায় নিহত রতন লালের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে সরকার, পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।