
শেষ আপডেট: 27 February 2020 18:30
মহীন্দর একা নন, এই কাজে সঙ্গী তাঁর ছেলে ইন্দ্রজিৎ । প্রতিদিন ভোর হতেই মহীন্দর স্কুটিতে আর তাঁর ছেলে বুলেট মোটরবাইকে চেপে বেরিয়ে পড়েন। ঘুরে বেড়ান উত্তর-পূর্ব দিল্লির এ গলি থেকে ও গলি। অসহায়, আহত মানুষজন দেখলেই তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। মহীন্দর বলেছেন, “গোকুলপুরী থেকে কারদামপুরে এক ঘণ্টা ধরে ২০টা ট্রিপ করি আমরা। মুসলিম মহল্লায় ঘুরে ঘুরে ডজনখানেক মানুষকে উদ্ধার করেছি। প্রত্যেকের অবস্থাই ছিল আশঙ্কাজনক। কারও শরীরে বিঁধেছিল গুলি, কাউকে কোপানো হয়েছিল এলোপাথাড়ি।” মুসলিমদের উদ্ধারের জন্য অনেক বাঁকা কথাও শুনতে হয়েছে মহীন্দরকে। বলেছেন, “আমি ধর্ম দেখে প্রাণ বাঁচাই না। অনেক হিন্দু মা-বোনেদেরও উদ্ধার করেছি। দাঙ্গার ভেতর থেকে বার করে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছি।”
প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে অনেক ভয়াবহ ঘটনারও সাক্ষী হতে হয়েছে মহীন্দরকে। বলেছেন, চোখের সামনে দেখতে হয়েছে নিষ্ঠুর হত্যালীলা। কিশোর, শিশুদেরও ছাড়ছিল না দাঙ্গাকারীরা। সর্দারজির কথায়, “ছোট ছোট ছেলেমেয়েগুলোকে দেখে মনে হচ্ছিল ওরা আমারই সন্তান। কোনও দোষ ছাড়াই হিংসার বলি হচ্ছে। ওদের অনেককে উদ্ধার করেছি নিষ্ঠুর বিক্ষোভকারীদের হাত থেকে।”
কারদামপুরে বিক্ষোভকারীদের গুলি লেগে জখম হয়েছিলেন এক যুবক, তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও বাঁচানো যায়নি বলেছেন মহীন্দর। চোখের সামনে ছটফট করতে থাকা সেই যুবককে দেখে প্রাণ বাঁচানোর অঙ্গীকার আরও দৃঢ় হয় তাঁর। মহীন্দর বলেছেন, "প্রচারে আসার জন্য করছি না। শুধু মায়ের কোল শূন্য হতে দেব না। একটি বাচ্চা ছেলে আমাকে এসে বলল, সে একজন সর্দারজির নাম জানে যে মুসলিম ভাইদের বাঁচায়। এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।"