নির্ভয়া ধর্ষকদের ফাঁসি কবে, আজ দুপুরে ফয়সালা দিল্লি হাইকোর্টে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে। আইনি পথের সুযোগ নিয়ে একটার পর একটা নতুন চালে ফাঁসির দিন পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছে নির্ভয়ার চার ধর্ষক। দিল্লির পাটিয়ালা হাউস আদালতের রায়ে পরবর্তী নির্দেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত হয়ে গিয়েছে নির্ভয়া-কাণ্ডের চা
শেষ আপডেট: 1 February 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে। আইনি পথের সুযোগ নিয়ে একটার পর একটা নতুন চালে ফাঁসির দিন পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছে নির্ভয়ার চার ধর্ষক। দিল্লির পাটিয়ালা হাউস আদালতের রায়ে পরবর্তী নির্দেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত হয়ে গিয়েছে নির্ভয়া-কাণ্ডের চার দণ্ডিতের ফাঁসি। এই নিয়ে দু’বার ফাঁসির দিন পিছিয়ে গেল আইনের গেড়োয়। পরবর্তী ফাঁসির দিন কবে, সেই নিয়ে এখনও জানায়নি আদালত। সূত্রের খবর, আজ, রবিবার বেলা ৩টে নাগাদ দিল্লি হাইকোর্ট পরবর্তী ফাঁসির দিন নিয়ে রায় শোনাবে।
শনিবার ভোর ৬টা নাগাদই একসঙ্গে ফাঁসিকাঠে ঝোলাবার কথা ছিল নির্ভয়ার চার ধর্ষক পবনকুমার গুপ্ত, অক্ষয় ঠাকুর, বিনয় শর্মা ও মুকেশ সিংকে। কিন্তু শুক্রবার বিকেলেই, দিল্লির পাটিয়ালা আদালতে দণ্ডিতদের আইনজীবী আপিল করেন, ১ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ শনিবার, চার জনের ফাঁসির উপরে স্থগিতাদেশ জারি করা হোক। তার জন্য তিনি যুক্তি সাজান, ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত বিনয় শর্মার প্রাণভিক্ষার আর্জি জানিয়েছে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে। যদিও সেই আর্জি খারিজ হয়ে গেছে। তবে তারপরেই মামলার অন্যতম দণ্ডিত অক্ষয় ঠাকুর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার জন্য আবেদন জানায়। দণ্ডিতদের আইনজীবীর যুক্তি, মুকেশ সিংয়ের কাছে আর কোনও আইনি পথ খোলা না থাকলেও পবন গুপ্তের সামনে এখনও ফাঁসির আদেশকে চ্যালেঞ্জ করার আইনি পথ খোলা আছে।
তাই শনিবার শুধু মুকেশের ফাঁসি হওয়া সম্ভব নয়। এই যুক্তিতে চার জনেরই ফাঁসি পিছিয়ে দেওয়া হোক বলে দাবি জানান তিনি। অপরাধীদের আইনজীবীর সেই আর্জি শুনে তিহাড় জেল কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট তলব করেন পাটিয়ালা আদালতের বিচারক ধর্মেন্দ্র রানা। সেই রিপোর্ট পাওয়ার পরে ফাঁসি স্থগিত করার রায় দেন তিনি।

ফাঁসির দিন নিয়ে দরাদরির মাঝেই চার আসামিকে ফাঁসিকাঠে ঝোলাতে তিহাড়ে এসে পৌঁছেছেন পবন জল্লাদ। আসামিদের সমওজনের বালি-পাথর বস্তায় ভরে ফাঁসির ডামি মহড়াও হয়ে গেছে তিহাড়ে। ফাঁসির দিন গুনছে জেল কর্তৃপক্ষও।
বস্তুত, ফাঁসির চার আসামির মধ্যে মুকেশ সিংয়ের প্রাণভিক্ষার আর্জিও রাষ্ট্রপতি খারিজ করে দিয়েছেন। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গেলে, বিচারপতি আর ভানুমতীর বেঞ্চ সেটাও খারিজ করে দেয়। মুকেশের সামনে কার্যত আর কোনও রাস্তা খোলা নেই। অক্ষয় ঠাকুর রিভিউ পিটিশন খারিজ হয়েছে। কিউরেটিভ পিটিশন জমা পড়লেও তা খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত। এখনও তার প্রাণভিক্ষার আর্জি জানানোর পথ খোলা আছে। বিনয়ের রিভিউ ও কিউরেটিভ পিটিশন খারিজ। তার নামে প্রাণভিক্ষার আর্জি জমা পড়েছে। কিন্তু সেই আর্জি তার নয় বলে বিনয় রাষ্ট্রপতিকে চিঠি লিখেছে।