
শেষ আপডেট: 17 October 2022 03:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইন রক্ষা করার দায়িত্ব যাঁদের উপর, আইন ভাঙার দায়ে গ্রেফতার হলেন তাঁরাই। শুল্ক দফতরের এক কর্মীকে (tax department employee) অপহরণ (kidnapping) এবং ব্ল্যাকমেল করে তাঁর কাছ থেকে টাকা দাবি করার অভিযোগে ৩ পুলিশকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ঘটনাটির দিল্লির। অভিযুক্ত তিন পুলিশকর্মীর (Delhi cops) নাম সন্দীপ, রবিন এবং ওয়াহিদ। তারা দিল্লির পুলিশের অধীনে সীমাপুরী থানায় কর্মরত। অভিযোগ, গত ১১ অক্টোবর দিল্লির শাহদর এলাকার জিটিভি এনক্লেভের এক কর্মীর গাড়ি আটকায় তিন পুলিশকর্মী। নিজেদের অপরাধ দমন শাখার কর্মী বলে পরিচয় দিয়ে তারা অভিযোগকারীকে জোর করে গাড়ীর পিছনের সিটে বসিয়ে রাখে। এরপর মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাঁর কাছ থেকে বিপুল টাকার দাবি করা হয়। তাঁর বুকে পিস্তল ধরে তখনই তাঁর পকেট থেকে নগদ ৩৫ হাজার টাকা বের করে নেওয়া হয়। এরপর তাঁকে মুক্তি দেওয়ার জন্য ৫ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়। না দিলে তাঁকে আটকে রাখা হবে বলে জানানো হয়।
অভিযোগকারী জানিয়েছেন, এরপর তাঁকে শাহদরা জেলার স্পেশাল স্টাফ অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এক আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলে অভিযুক্তরা। তারপর আবার তাঁকে গাড়িতে নিয়ে গিয়ে বসানো হয়। এরপর শারীরিক পরীক্ষা করানোর নাম করে অভিযুক্তরা তাঁকে জিটিবি হাসপাতালে সার্ভিস লেনে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে আবার ভয় দেখানো হয়। নির্যাতিত ব্যক্তি এরপর বাধ্য হয়েই ওই পুলিশকর্মীদের নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর তিনি নগদ ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন তাদের হাতে। তারপর এক বন্ধুর থেকে ধার নিয়ে আরও ৭০ হাজার টাকা তিনি গৌরব নামে আরও এক অপরাধীর স্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করেন। তারপর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পরেই জিটিভি এনক্লেভ থানায় ওই পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিত ব্যক্তি। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপহরণ এবং জোর করে টাকা আদায়ের মামলা রুজু করে। রবিবার সন্দীপ, রবিন এবং ওয়াহিদ নামে তিন পুলিশকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। গৌরব, যে কিনা সীমাপুরী এলাকার একজন সাধারণ রাঁধুনি, তার এবং দিল্লি পুলিশের একজন কনস্টেবল অমিতের বিরুদ্ধেও মামলা রুজু করা হয়েছে। যদিও তারা বর্তমানে পলাতক। পুলিশ জানিয়েছে পুরো ঘটনার মূল চক্রী হল অমিত। ওই পুলিশকর্মীদের সঙ্গে গৌরব পরে যোগ দেয়। অপরাধের জন্য ওয়াহিদের গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছিল। ঘটনাটিতে দিল্লি পুলিশের এক সাব-ইন্সপেক্টর জড়িত আছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
চিনে বিদ্রোহের ছাইচাপা আগুন, শি জিনপিং ডাক দিলেন নতুন সমাজতন্ত্র নির্মাণের