
শেষ আপডেট: 16 December 2022 05:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির অ্যাসিড (Delhi Acid Attack) আক্রান্ত স্কুলছাত্রীর চোখদু'টি বেঁচে গেছে (Vision Not Affected)। দৃষ্টিশক্তি রয়েছে তার। আপাতত জ্ঞান ফিরেছে, কথাও বলছে মেয়েটি। তবে মুখের ও গায়ের ক্ষত সারতে সময় লাগবে। এমনটাই জানালেন সফদরজং হাসপাতালের চিকিৎসকরা। সেখানেই চলছে ওই কিশোরীর চিকিৎসা। বুধবার দ্বারকা এলাকায় বাইকে করে এসে ১৭ বছরের ওই মেয়েটির মুখে অ্যাসিড ছুড়েছিল দুই দুষ্কৃতী। পুলিশি হেফাজতে রয়েছে তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার মূল চক্রি সচিন অরোরা বলে এক যুবক। তার সঙ্গে ছিল হর্ষিত আগরওয়াল এবং বীরেন্দ্র সিং। তিন জনেরই বয়স উনিশ-কুড়ির কোঠায়। হর্ষিত আগরওয়াল বাইক চালাচ্ছিল, সচিন ছুড়েছিল অ্যাসিড। পরে বীরেন্দ্র সিং ওই বাইক এবং সচিনের মোবাইল নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে অনেক দূরে চলে যায়, যাতে লোকেশন দেখে পুলিশ কিছু বুঝতে না পারে।
বুধবারের এই অ্যাসিড হামলার ঘটনার পুরো ভিডিও ধরা পড়েছে রাস্তার ধারে লাগানো সিসি ক্যামেরায়। সেই সূত্র ধরেই পুলিশের জালে ধরা পড়েছে তিন অভিযুক্ত। পুলিশ ইতিমধ্যেই তাদের জেরা করার পরে জানিয়েছে, রাস্তার দোকান থেকে নয়, রীতিমতো ফ্লিপকার্টে (Flipcart) অর্ডার দিয়ে অ্যাসিড কিনেছিল অভিযুক্তরা।
এর পরেই দিল্লির মহিলা কমিশনের তরফে একটি নোটিস ইস্যু করা হয়েছে ই-কমার্স সাইট ফ্লিপকার্ট ও অ্যামাজনকে। অনলাইনের খোলা বাজারে তারা কীভাবে অ্যাসিড বিক্রি করতে পারে, সে প্রশ্ন তোলা হয়্ছে। এই দুই সংস্থার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করে, ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।
এর পরেই বৃহস্পতিবার দিল্লির এই অ্যাসিড হামলার নিন্দা করে একটি বিবৃতি জারি করে ফ্লিপকার্ট। তারা জানায়, ওই অ্যাসিড বিক্রেতাকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে তারা। তদন্তে যে কোনও ধরনের সাহায্য করতেও তারা প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। বিবৃতিতে তারা বলে, 'এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার কড়া নিন্দা করছি আমরা। আক্রান্ত কিশোরী ও তার পরিবারের জন্য প্রার্থনা করছি। ফ্লিপকার্টের তরফ থেকে খুঁটিয়ে দেখা হবে এভাবে কারা নিয়ম ভেঙে নিষিদ্ধ, বেআইনি ও বিপজ্জনক জিনিস বিক্রি করছে। যাদের পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করছে ফ্লিপকার্ট।'
বুধবারের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রাস্তা দিয়ে হাঁটছে দুই কিশোরী। হঠাৎ বাইকে করে দু’জন সেখানে আসে। এরপর চলন্ত বাইক থেকেই কিশোরীর মুখে তরলজাতীয় কিছু একটা ছুড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। যন্ত্রণায় সেখানেই কাতরাতে কাতরাতে মাটিতে বসে পড়ে ওই কিশোরী। পরে দেখা যায়, স্থানীয়রা ছুটে এসে মুখ ধুইয়ে দিচ্ছেন তার।
দেখুন সেই ভিডিও।
এই ঘটনায় কিশোরীর বাবা বলেন, ‘আমার দুই মেয়ে, ১৩ আর ১৭ বছর বয়স। ওরা রোজ একসঙ্গেই স্কুলে যায়। আজও তাই যাবে বলে বেরিয়েছিল। একটু পরেই ছোটমেয়ে ছুটতে ছুটতে বাড়ি এসে বলল, দিদির ওপর অ্যাসিড হামলা হয়েছে! কে কেন এমন করল, জানি না। কেউ যে মেয়েকে উত্ত্যক্ত করছিল, তাও কখনও জানতে পারিনি। জানলে একা ছাড়তাম না।’
তবে তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, সচিন অরোরা এবং ওই কিশোরীর বন্ধুত্ব ছিল গত সেপ্টেম্বর অবধি। তারা একই এলাকার বাসিন্দা। সেপ্টেম্বরের পর থেকে বন্ধুত্বে চিড় ধরতেই প্রতিশোধ নেওয়ার ছক কষতে থাকে সচিন।