
শেষ আপডেট: 27 September 2020 18:30
সুপারসনিক ব্রাহ্মস মিসাইল[/caption]
রাশিয়ার এনপিওএম সংস্থার তৈরি ব্রাহ্মস ক্রুজ মিসাইল মাঝারি পাল্লার। রাশিয়া বাহিনী হাতে এই মাঝারি পাল্লার ব্রাহ্মসই আছে। কিন্তু ভারতের ডিআরডিও এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা আরও বাড়িয়ে তাকে ক্ষিপ্র ও বিধ্বংসী করে তুলেছে। ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে থাকা ব্রাহ্মস পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ও দ্রুতগতির অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল। এটি সারফেস-টু-সারফেস, এয়ার-টু-সারফেস এবং যুদ্ধজাহাজ থেকেও ছোড়া যায়। ল্যান্ড লঞ্চড, শিপ লঞ্চড ও এয়ার লঞ্চড ভ্যারিয়ান্ট রয়েছে। ভারতীয় সেনা সূত্রে খবর, ৩০০ কিলোগ্রাম ওয়ারহেডের ব্রাহ্মস মিসাইল এমনভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাতে তিব্বত ও জিনজিয়াং বেস থেকে উড়ে আসে ফাইটার এয়ারক্রাফ্টকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে পারে। তিন হাজার কিলোগ্রাম ওজনের ব্রাহ্মস লম্বায় প্রায় ২৮ ফুট। তবে এর এয়ার-লঞ্চড ভার্সনের ওজন আড়াই হাজার কিলোগ্রামের কাছাকাছি। এটি নিক্ষেপ করার জন্য রয়েছে সলিড রকেট বুস্টার ইঞ্জিন (প্রথম দফায়) ও লিকুইড র্যামজেট ইঞ্জিন। প্রতিরক্ষার তিন স্তম্ভ স্থলবাহিনী, বায়ুসেনা ও নৌবাহিনীর হাতে রয়েছে ব্রাহ্মস। এর গতি ঘণ্টায় ৩৭০০ কিলোমিটার। সেখানে মার্কিন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র টোমাহকের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯০ কিলোমিটার। ভারতের ব্রাহ্মসের গতি এর চার গুণ।
[caption id="attachment_263484" align="aligncenter" width="650"]
‘নির্ভয়’ ক্রুজ মিসাইল[/caption]
হাজার কিলোমিটার পাল্লার সারফেস-টু-সারফেস ল্যান্ড অ্যাটাক ‘নির্ভয়’ ক্রুজ মিসাইল বানিয়েছে ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও। ২০১৩ সাল থেকেই নির্ভয় ক্রুজ মিসাইলের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চলছে। মাঝে নানা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এই মিসাইলের টেস্ট-ফায়ার বন্ধ রাখা হয়। পরে এই ক্ষেপণাস্ত্রেরই আধুনিকীকরণ করে এর আপগ্রেডেড ভার্সন বানায় ডিআরডিও। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্ভয় হল দূরপাল্লার অর্থাৎ লং রেঞ্জ ল্যান্ড অ্যাটাক ক্রুজ মিসাইল (LRLACM) । যুদ্ধজাহাজ থেকে আগে হাজার কিলোমিটার পাল্লায় নিক্ষেপ করা যেত এই ক্ষেপণাস্ত্র। বর্তমানে এর নয়া ভার্সন যে কোনও যুদ্ধজাহাজ থেকে ১৫০০ কিলোমিটার পাল্লা অবধি নিক্ষেপ করা সম্ভব। এটি ‘ট্রাই-সার্ভিস’ মিসাইল সিস্টেম। এর এয়ার লঞ্চড ভার্সন আছে আবার ন্যাভাল-ভার্সনও রয়েছে। নতুন প্রযুক্তিতে গ্রাউন্ড লঞ্চের জন্যও এই ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োগ করতে পারবে বায়ুসেনা। সঠিক নিশানা লাগাতে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র। যে কোনও লক্ষ্যবস্তুতে টার্গেট করা সম্ভব।
[caption id="attachment_263485" align="aligncenter" width="596"]
আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র[/caption]
এই ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য শক্তিশালী রকেট লঞ্চার তৈরি করেছে অ্যাডভান্সড সিস্টেম ল্যাবোরেটরি। এতে রয়েছে মাইক্রোইলেকট্রোমেকানিক্যাল সিস্টেম (MEMS)ও জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেম। ৬ মিটার দৈর্ঘ্যের এই ক্ষেপণাস্ত্রের ওজন ১৫০০ কিলোগ্রাম। ২০০-৩০০ কিলোগ্রাম ওজনের ২৪টি ভিন্ন রকমের ওয়ারহেড রয়েছ নির্ভয় ক্রুজ মিসাইলে। নির্ভয় হল সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল। ব্রাহ্মসের মতো শব্দের চেয়েও দ্রুত গতিতে ছুটতে পারে। সারফেস-টু-সারফেস, এয়ার-টু-সারফেস এবং সারফেস-টু-এয়ারে ছোড়া যায় এই ক্ষেপণাস্ত্র। যে কোনও শত্রু জাহাজ ধ্বংস করে দিতে পারে নির্ভয়।
আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র এই মুহূর্তে ভারতের আকাশসীমা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি শুধু একটি ক্ষেপণাস্ত্র নয়, এটি এখন একটি পুরোদস্তুর আকাশসীমা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। আকাশ পথে ধেয়ে আসা অনেক বড়সড় আক্রমণকেই রুখে দিতে সক্ষম আকাশ। একসঙ্গে ৬৪টি টার্গেটে নিশানা করতে পারে এই মিসাইল। যে কোনও আধুনিক ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট, ক্রুজ মিসাইল ও ব্যালিস্টিক মিসাইলের আক্রমণ রুখে দিতে পারে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র।