মামলাকারীদের দাবি, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও পুলিশের মধ্যে ‘যোগসাজশ’ ছিল। তাই গোটা তদন্ত হস্তান্তর করা হোক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 19 August 2025 18:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খেজুরিতে (Khejuri Case) দুই ব্যক্তির রহস্যমৃত্যু ঘিরে সামনে এল আরও ভয়াবহ তথ্য। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) জমা পড়ল এসএসকেএম হাসপাতালে (SSKM) হওয়া দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের বিস্ফোরক রিপোর্ট। সেই রিপোর্টেই পরিষ্কার, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নয়, শারীরিক অত্যাচারেই প্রাণ গিয়েছে দুই ব্যক্তির। রিপোর্ট দেখে রীতিমতো ক্ষুব্ধ বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।
প্রথমে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ময়নাতদন্তে বলা হয়েছিল, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে। তবে বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশে, এসএসকেএমে তিন চিকিৎসকের উপস্থিতিতে ফের ময়নাতদন্ত করা হয়। সেই রিপোর্ট জমা পড়তেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে।
এসএসকেএমের রিপোর্ট বলছে, শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। স্পষ্ট অত্যাচারের প্রমাণ মিলেছে, যা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট মৃত্যুর সঙ্গে মেলে না। এমনকি রিপোর্টে উল্লেখ, বিদ্যুৎস্পৃষ্টের কোনও লক্ষণই দেহে ছিল না।
এই রিপোর্ট জমা পড়তেই বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ ক্ষোভ উগরে দেন। প্রশ্ন তোলেন, “তাহলে প্রথম রিপোর্টে সত্য গোপন করা হল কেন?” পাশাপাশি, প্রথম ময়নাতদন্তে যাঁরা যুক্ত ছিলেন, তাঁদের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। মামলাকারীদের দাবি, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও পুলিশের মধ্যে ‘যোগসাজশ’ ছিল। তাই গোটা তদন্ত হস্তান্তর করা হোক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে।
আগামিকাল, বুধবার ফের এই মামলার শুনানি। বিচারপতির পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে আগামী পদক্ষেপ ঘিরে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। এখন দেখার, রাজ্য সরকারের অবস্থান কী হয় এবং আদালত শেষ পর্যন্ত কোন পথে হাঁটে।