সময়সীমা যত এগিয়ে আসছে, বিএলওদের ওপর চাপ ততই বাড়ছে।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 21 November 2025 17:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী ৪ ডিসেম্বরের মধ্যেই (Deadline December 4) এনুমারেশন ফর্ম (Enumeration form) জমা ও ডিজিটালাইজেশন শেষ করতে হবে— নিউটাউনে ডিএম ও এডিএমদের বৈঠকে স্পষ্ট নির্দেশ দিলেন দেশের ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী।
শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) পক্ষ থেকে আয়োজিত সেই বৈঠক ও ইভিএম চেকিং কর্মশালায় তিনি জানান, সময়সীমা কোনওভাবেই পিছোবে না, এবং দায়িত্বে কোনও গাফিলতি মানা হবে না।
জ্ঞানেশ ভারতী বলেন, “অধিকাংশ বিএলও অত্যন্ত ভাল কাজ করছেন। তাঁদের পরিশ্রম কমিশন স্বীকার করে। কিন্তু কিছু বিএলও রয়েছেন যাঁরা নিজেদের মতো কাজ করছেন। গাইডলাইন মানছেন না। এই ধরনের আচরণ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।”
গাইডলাইন ভাঙলে পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, “যারা নিয়ম মানছেন না, তাঁদের আগে শোকজ করুন। তারপরও না শুনলে সাসপেন্ড করুন (Show cause-suspension if guidelines are not followed)। আমরা তো বলছি না প্রথমেই সাসপেন্ড করতে। সিইও সাহেবও একই কথা বলেছেন।”
প্রসঙ্গত, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ইতিমধ্যে বেলেঘাটা বিধানসভার সাতজন বিএলও-কে শোকজ করেছে কমিশন।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়ালও কাজের চাপে বিএলওদের সমস্যার কথা আংশিক স্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্য, “নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে, ফলে চাপ তো একটু আছেই। কিন্তু পাশের রাজ্য বিহারেও তো এসআইআর হয়েছে। আমরা পারব না, এমন নয়।” তিনি আরও জানান, বুথে সর্বোচ্চ ভোটারসংখ্যা ১২০০ হলেও অধিকাংশ বুথেই গড় ভোটারসংখ্যা প্রায় ৮০০। ফলে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করেই কাজ এগোতে হবে।
এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ এর ঠিক আগের দিনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বিএলওদের ওপর অতিরিক্ত চাপ নিয়ে। তিনি বলেন, “অতিরিক্ত চাপের ফলে কর্মীদের প্রাণহানি ঘটছে। এত তাড়াহুড়ো করে এসআইআর করলে প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই আশঙ্কা শুধু প্রশাসন নয়, নির্বাচন কমিশনকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
এনুমারেশন ফর্ম সংগ্রহ, যাচাই ও ডিজিটালাইজেশন— প্রতিটি ধাপই সূক্ষ্ম এবং শ্রমসাধ্য। সে কারণে বিএলওদের ওপর চাপ বাড়ছে। কমিশন পরিষ্কার করেছে, নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যেই কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে। অন্যদিকে রাজ্য সরকার চাইছে, দায়িত্ব পালনে কর্মীদের সুরক্ষা ও বাস্তব পরিস্থিতি যাতে যথাযথ গুরুত্ব পায়।
সব মিলিয়ে সময়সীমা যত এগিয়ে আসছে, বিএলওদের ওপর চাপ ততই বাড়ছে। তবে কমিশনের নির্দেশ ও মুখ্যমন্ত্রীর সতর্কতার মাঝখানে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে আদৌ কি নিখুঁতভাবে সব কাজ শেষ করা সম্ভব হবে?