রাফাল-চুক্তিতে ভারতীয় সংস্থাকে ঘুষ দিয়েছে দাসো, তদন্তে দাবি ফরাসি মিডিয়ার
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৫৯ হাজার কোটি টাকার রাফাল যুদ্ধবিমান চুক্তি নিয়ে ফ্রান্সে বিচারবিভাগীয় তদন্ত চলছিল। ফ্রান্সের সঙ্গে ভারতের যুদ্ধবিমান চুক্তিতে বিপুল অঙ্কের টানা এদিক ওদিক হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। ফ্রান্সের একটি সংবাদমাধ্যম রাফাল নির
শেষ আপডেট: 8 November 2021 11:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৫৯ হাজার কোটি টাকার রাফাল যুদ্ধবিমান চুক্তি নিয়ে ফ্রান্সে বিচারবিভাগীয় তদন্ত চলছিল। ফ্রান্সের সঙ্গে ভারতের যুদ্ধবিমান চুক্তিতে বিপুল অঙ্কের টানা এদিক ওদিক হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। ফ্রান্সের একটি সংবাদমাধ্যম রাফাল নির্মাতা সংস্থা দাসো অ্যাভিয়েশনের বিরুদ্ধে চুক্তির মধ্যস্থতাকারীকে ৭.৫ মিলিয়ন ইউরো (ভারতীয় টাকায় যা ৬৫ কোটি টাকা) ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিল। এই অভিযোগ যদিও অস্বীকার করেছিল ফরাসি যুদ্ধবিমান নির্মাতা সংস্থা। এতদিন পরে ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফের দাবি করেছে, মধ্যস্থতাকারীকে এই বিপুল অঙ্কের টাকাই ঘুষ দিয়েছিল দাসো। রাফাল-দুর্নীতি নিয়ে মোদী সরকারের বিরোধিতায় যখন গলা চড়িয়েছিল কংগ্রেস, তখন এর পাল্টা বফর্স কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ টেনে আনে বিজেপি। ভারতের ইতিহাসে আশির দশকের পট পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় কারণটি ছিল বফর্স কেলেঙ্কারি। ১৯৮৬ সালে ভারতের সাথে ১,৪৩৭ কোটি সামরিক অস্ত্রের চুক্তির জন্য ভারতীয় কিছু সংস্থাকে বড় অঙ্কের টাকা ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল সুইডিশ সংস্থার বিরুদ্ধে। সেবারও সুইডেনের এক সংবাদমাধ্যম সুইডিশ রেডিও এই ঘুষ-কাণ্ডের কথা ফাঁস করেছিল।
তিন দফায় এ সংক্রান্ত একটি তদন্তমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ফ্রান্সের ওই সংবাদমাধ্যম। তারা জানিয়েছে, এই ঘুষকাণ্ডের কথা ২০১৮ সালের অক্টোবরেই জেনেছিল ফ্রান্সের দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষ। যদিও এ ব্যাপারে দাসো-র কাছে রিপোর্ট চাওয়া হলে, তারা জানায়, ওই টাকা তাদের ভারতীয় সাব কন্ট্রাক্টরকে দেওয়া হয়েছে রাফাল বিমানের ৫০টি নমুনা তৈরি করার জন্য।
ভারতের দেওয়া সবচেয়ে বড় যুদ্ধবিমানের চুক্তি ছিল এটি। মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার চার বছরের মধ্যেই ফরাসি সংস্থা দাসো অ্যাভিয়েশনের সঙ্গে ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমানের চুক্তি করে ভারত। অভিযোগ ওঠে এই চুক্তিতে বড় অঙ্কের টাকার দুর্নীতি হয়েছে। এমনকি ভারতে অনীল আম্বানির সংস্থাকে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলে বিরোধিরা।
যে ভারতীয় সংস্থা ডেফসিস সলিউশনকে নিজেদের সাব কন্ট্রাক্টর বলে দাবি করেছে দাসো, তার কর্ণধার হলেন সুসেন গুপ্ত। মিডিযাপার্টের দাবি, এই সুসেন গুপ্ত ২০১৯ সালে অগুস্তা ওয়েস্টল্যান্ড কাণ্ডে অর্থ তছরুপের ঘটনায় ফেঁসেছিল। তখন তাঁকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। পরে জামিনে মুক্তি পান তিনি। মিডিযাপার্ট তাদের তদন্তের রিপোর্টে জানিয়েছে, ২০১৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাফালচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পরই ওই টাকা দিতে রাজি হয়েছিল দাসো। তবে ফরাসি যুদ্ধবিমানের রেপ্লিকা তৈরির জন্য ভারতীয় সংস্থার দরকার পড়ল কেন তার কোনও জবাব দিতে পারেনি দাসো।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'