সবটাই হচ্ছে ভার্চুয়াল দুনিয়ায়, চোখের আড়ালে। অদৃশ্য এই ডিজিটাল ডাকাতি সামলাতে কার্যত কালঘাম ছুটছে তদন্তকারী সংস্থাগুলির। প্রযুক্তির সুবিধা যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে তার অপব্যবহার—এই নতুন আতঙ্কই এখন কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে আমজনতার।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 15 December 2025 16:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ই-পস মেশিনে স্মার্ট ওয়াচ (Smart Watch Payments) ছোঁয়ালেই পেমেন্ট, ঝঞ্ঝাটহীন এই লেনদেনই এখন শহুরে জীবনের নতুন অভ্যাস। এয়ারপোর্টের লাউঞ্জ হোক কিংবা শপিং মলের বিল কাউন্টার, এক ট্যাপেই কাজ শেষ।
কিন্তু সেই সুবিধার আড়ালেই ঘাপটি মেরে বসে আছে ভার্চুয়াল ছিনতাইবাজ! স্মার্ট ওয়াচের একটি আপডেটেই ঢুকে পড়ছে ডার্ক ওয়েবের ভাইরাস (Dark web)। আর তারপরই ট্যাপ-টু-পেমেন্টে অনুমতি দিলেই অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে যাচ্ছে টাকা।
দেশজুড়ে প্রযুক্তিনির্ভর এই প্রতারণা রুখতে কার্যত রাতের ঘুম উড়েছে তদন্তকারীদের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, গত ছ’মাসে এই অজানা সাইবার হানায় প্রায় ১,১০০ কোটি টাকার ডিজিটাল লুট হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই সচেতনতা প্রচারে নেমেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ট্যাপ করে পেমেন্ট—এই প্রবণতা এখন প্রায় ব্যাকডেটেড। হাইটেক প্রজন্ম ঝুঁকছে মোবাইল, স্মার্ট গ্যাজেট আর ওয়াচনির্ভর আর্থিক লেনদেনের দিকে। মানিব্যাগে নগদ রাখার চল কমেছে, পাড়ার মুদি দোকানেও চোখ খোঁজে কিউ-আর কোড। এই অভ্যাসই বাড়িয়েছে সাইবার প্রতারণার ঝুঁকি।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, স্মার্টফোনে সেভ করা থাকে গ্রাহকের ডেবিট-ক্রেডিট কার্ডের ভার্চুয়াল তথ্য। সেই তথ্য আবার স্মার্ট ওয়াচের সঙ্গে ‘সিঙ্ক’ করে রাখা যায়। মোবাইল ডেটা বা ওয়াইফাই থাকলেই এনএফসি-ভিত্তিক ট্যাপ-টু-পেমেন্ট সম্ভব। আর ঠিক সেখানেই ফাঁদ পাতে প্রতারকরা।
পুলিশ ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের দাবি, কোনও নির্দিষ্ট গ্রাহককে টার্গেট করা হচ্ছে না। স্মার্ট ওয়াচের ফার্মওয়্যার আপডেট করতে গিয়ে যে পাবলিক বা সেমি-পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করা হয়, সেই ওয়াইফাই জোনের আইপি অ্যাড্রেসেই ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে ম্যালওয়্যার। একবার সেই সংক্রমিত ওয়াইফাইয়ে আপডেট হলেই ভাইরাস ঢুকে পড়ছে ঘড়িতে। এরপর গ্রাহক যখনই ট্যাপ-টু-পেমেন্ট করেন, তখন বায়োমেট্রিক অনুমতির সুযোগে পেমেন্টের রিসিভার বদলে গিয়ে টাকা চলে যাচ্ছে প্রতারকদের অ্যাকাউন্টে।
সবটাই হচ্ছে ভার্চুয়াল দুনিয়ায়, চোখের আড়ালে। অদৃশ্য এই ডিজিটাল ডাকাতি সামলাতে কার্যত কালঘাম ছুটছে তদন্তকারী সংস্থাগুলির। প্রযুক্তির সুবিধা যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে তার অপব্যবহার—এই নতুন আতঙ্কই এখন কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে আমজনতার।