
শেষ আপডেট: 26 August 2023 10:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর প্রদেশের মুজফ্ফনগরের স্কুলে শিক্ষিকার মুখে এক নাবালক মুসলিম ছাত্রের প্রতি ধর্ম বিদ্বেষ এবং সহপাঠীদের দিয়ে মারধরের ঘটনাটি নিয়ে দেশব্যাপী নিন্দার ঝড় বইছে। গোটা দেশ স্তম্ভিত শিক্ষিকার আচরণ এবং মন্তব্যে।
এবার রাজস্থানের একটি স্কুলে (Rajasthan school) দশম শ্রেণির এক ছাত্রকে জাত তুলে গালাগাল এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। সেই ছাত্র স্কুলের হস্টেলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে (Dalit student suicide)। ছাত্রের পরিবার দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে। পরিবারের অভিযোগ, স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল, ভাইস প্রিন্সিপ্যালের বিরুদ্ধেও।
ওই ছাত্রের কাকা থানায় অভিযোগ করেন, আগের দিন রাতে ছাত্রটি তার বাবাকে ফোন করে জানান, দুই শিক্ষক তাঁকে ক্লাসে সহপাঠীদের সামনে জাত তুলে গালমন্দ করেছে। আগেও একাধিকবার ওই ছাত্রের জাত তুলে গালমন্দ করে দুই শিক্ষক। কাকার বক্তব্য, ছাত্রটি বাবাকে আরও জানায়, সে প্রিন্সিপ্যাল এবং ভাইস প্রিন্সিপ্যালকে সে দুই শিক্ষকের আচরণের কথা জানায়। প্রিন্সিপ্যাল তাকে বলে ছোট জাতের হলে কথা তো শুনতেই হবে।
অভিযোগ, প্রিন্সিপ্যালকে নির্যাতনের কথা জানানোয় দুই শিক্ষক ওই ছাত্রকে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়। ছেলের আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষক এবং প্রিন্সিপ্যাল ও ভাইস প্রিন্সিপ্যালকে গ্রেফতারের দাবি তোলে আত্মঘাতী ছাত্রের পরিবার। গ্রেফতার না করা পর্যন্ত সন্তানের দেহ দাহ করতে অস্বীকার করে মৃত ছাত্রের পরিবার। পরে পদস্থ পুলিশ কর্তারা উপযুক্ত তদন্তের আশ্বাস দেওয়ায় ছাত্রের দেহ সৎকার করে পরিবার।
তবে পুলিশ কেন গুরুতর অভিযোগের পরও দুই শিক্ষককে গ্রেফতার করেনি তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জেলা পুলিশের বক্তব্য, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উত্তর প্রদেশেও শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ধর্ম বিদ্বেষের ঘটনায় পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করেনি। যদিও গতমাসেই সুপ্রিম কোর্ট একটি মামলায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে, ধর্ম, জাত তুলে ঘৃণা ভাষণ, বিদ্বেষের ঘটনায় পুলিশকে অভিযোগের অপেক্ষায় থাকলে চলবে না। স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করতে হবে।
আরও পড়ুন: এবার সিদ্ধ চালে ২০ শতাংশ শুল্ক চাপাল ভারত! বিপাকে ইউরোপ, বাংলাদেশকে সরবরাহের আশ্বাস