
শেষ আপডেট: 10 October 2023 13:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বকেয়া ডিএ-সহ চারদফা দাবিতে ফের কর্মবিরতিতে নামল সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন সংগ্রামী যৌথমঞ্চ। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি চলবে আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত। দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
টানা প্রায় ন’মাস ধরে শহিদ মিনারের সামনে আন্দোলন করছে সংগ্রামী যৌথমঞ্চ। কেন্দ্রীয় হারে রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের ডিএ, শূন্যপদে স্বচ্ছ এবং স্থায়ী নিয়োগ, যোগ্য অস্থায়ী কর্মচারিদের স্থায়ী পদে নিয়োগের দাবিতে এদিন রাজভবন ও নবান্নের সামনেও অবস্থান করার কথা জানিয়েছেন তাঁরা। ফলে আর পাঁচটা দিনের তুলনায় এদিন নবান্ন এবং রাজভবনের সামনে পুলিশি নিরাপত্তাও চোখে পড়ার মতো।
নিজেদের বকেয়া পাওনার দাবিতে সম্প্রতি দিল্লিতে অভিযান করেছিলেন যৌথ মঞ্চের সদস্যরা। প্রয়োজনে ফের দিল্লি অভিযানের কথাও জানিয়েছেন নেতৃত্ব। তাঁদের বক্তব্য, বকেয়া ডিএ সহ বেশ কয়েকটি ন্যায্য দাবিতে প্রায় ১ বছর ধরে আন্দোলন চললেও কোনও সুরাহা হল না। সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া পাওনা মেটানোর বিষয়ে সরকার পুরোপুরি উদাসীন।
সম্প্রতি বিধানসভায় মন্ত্রী, বিধায়কদের বেতন বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মন্ত্রী, বিধায়কদের বেতন এক ধাক্কায় মাসে বেড়েছে ৪০ হাজার টাকা। অর্থাৎ মন্ত্রী, বিধায়কদের বেতন দিতে প্রতি মাসে সরকারকে অতিরিক্ত ১১ কোটি ৭ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় করতে হবে। বিষয়টি জানতে পারার পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছেন যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের সদস্যরা।
যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, “সরকারের কোষাগার যদি শূন্যই হয় তাহলে মন্ত্রী, বিধায়কদের প্রতি মাসে বেতন দিতে অতিরিক্ত ১১ কোটি টাকা কোথা থেকে আসবে?”
শুধু মন্ত্রী, বিধায়কদের বেতন বৃদ্ধি নয়, সম্প্রতি দুর্গাপুজোয় ক্লাবগুলোর অনুদান বাড়িয়েছে রাজ্য। এবারে ক্লাব পিছু ৭০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য। অন্যান্য বারের মতো এবারেও পুজো কমিটিগুলির বিদ্যুৎ বিলেও ছাড় দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। নেতৃত্বর অভিযোগ, “পুজোর অনুদানে সবমিলিয়ে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা খরচ করছে রাজ্য। তখন সরকারের ভাঁড়ারে টান পড়ে না। শুধু আমরা বকেয়া ডিএ-র দাবি জানালেই সরকারের কোষাগার শূন্য হয়ে যায়। এরই প্রতিবাদে আমাদের এই কর্মসূচি।”