ঘূর্ণিঝড় ‘মান্থা’ অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ে এখন গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। তবুও পশ্চিমবঙ্গজুড়ে শনিবার পর্যন্ত চলবে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া।

নিজস্ব চিত্র- দ্য় ওয়াল
শেষ আপডেট: 30 October 2025 12:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘূর্ণিঝড় 'মান্থা'-র প্রভাবে রাজ্যজুড়ে চলবে ঝড়-বৃষ্টি, এমনটা আগেই জানিয়েছিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়ে তাণ্ডব চালানোর পর ঘূর্ণিঝড় ‘মান্থা’ এখন শক্তি হারিয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। কিন্তু তার প্রভাব এখনই কাটছে না। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এই নিম্নচাপের কারণেই আগামী কয়েকদিন পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত এবং ঝোড়ো হাওয়া চলবে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে খবর, স্থলভাগের উপর দিয়ে এটি দক্ষিণ ছত্তীসগঢ়ের দিকে এগিয়ে আরও দুর্বল হলেও, শনিবার পর্যন্ত এই নিম্নচাপের প্রভাবে রাজ্যের আবহাওয়ায় বড়সড় পরিবর্তন থাকবে। তিন দিন দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত থেকে ভারী বৃষ্টি চলতে থাকবে। মেঘলা আকাশের কারণে আপাতত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কম থাকবে। তিন-চার দিন পর আবহাওয়া শুকনো হলে তাপমাত্রা আবার বাড়বে।
বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া। বাকি সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে। বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদ।বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে পূর্ব বর্ধমান এবং পশ্চিম বর্ধমানে। বাকি জেলাগুলিতে হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস। শনিবার বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টি হবে সব জেলায়। উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া এবং পূর্ব মেদিনীপুরের কিছু এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। রবিবারের পর থেকে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া আবার শুকনো হয়ে উঠবে।
এই নিম্নচাপের সরাসরি প্রভাব উত্তরবঙ্গেও পড়তে চলেছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং সহ উত্তরের কয়েকটি জেলায় অতি ভারী বর্ষণের চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরের বাকি জেলাগুলিতেও ভারী বৃষ্টি চলবে।আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের কয়েকটি জায়গায় ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে।
উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া আবার স্বাভাবিক এবং শুকনো হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে সমুদ্রের উপর দিয়ে ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৪৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে। এর ফলে সমুদ্র অত্যন্ত উত্তাল থাকবে। মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁদের সমুদ্রে যেতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।