
শেষ আপডেট: 21 November 2018 18:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঋতুমতী হওয়ার 'অপরাধে' প্রাণ হারাতে হল কিশোরীকে। গত বৃহস্পতিবার তামিলনাড়ুর এই ঘটনায় স্তম্ভিত সকলে। ইতিমধ্যেই শবরীমালা নিয়ে বিতর্কের আগুন জ্বলছে। ঋতুমতী অবস্থাতেও মন্দিরে প্রবেশের অধিকার পেতে মরিয়া নারী সমজা। তার মধ্যেই নিঃশব্দে ঋতু-কুসংস্কারের বলি হল কিশোরী।
সূত্রের খবর, গত সপ্তাহের গোড়ার দিকে ঋতুমতী হয় তামিলনাড়ুর তাঞ্জাভুর জেলার আনাইকাড্ডু গ্রামের ১২ বছরের কিশোরী বিজয়ালক্ষ্মী। কিন্তু স্থানীয় সংস্কার ও রীতি অনুযায়ী, প্রথম বার ঋতুমতী হলে প্রথম কয়েক দিন ঘরে থাকতে পারবে না কোনও মেয়ে। তাই ঋতুমতী হওয়ার পর থেকে কয়েক দিন তাঁর ঠাঁই হয়েছিল বাড়ির পাশে খড়ের শস্যগোলায়। এই অবস্থায়, ১৫ তারিখ তামিলনাড়ু জুড়ে আছড়ে পড়ে তীব্র ঘূর্ণিঝড় গাজা। তার আগে থেকেই অবশ্য আবহাওয়া দফতরের সতর্কতা জারি ছিল। বারবার করে ঘোষণা করা হয় খড়ের বা টিনের চালের ঘরে থাকা যাবে না কোনও ভাবেই। এই রকম কাঁচা ঘরের বাসিন্দা বহু মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়েও নিয়ে যায় স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু টনক নড়েনি বিজয়ালক্ষ্মীর পরিবারের। মধ্যযুগীয় কুসংস্কার ভেঙে শস্যগোলা থেকে মেয়েকে বার করেনি তার পরিবার। অথচ বাড়ির বাকি বাসিন্দারা পাকা বাড়িতেই ছিলেন। এই অবস্থায় শস্যগোলার উপরে ভেঙে পড়ে বিশাল এক নারকেল গাছ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই কিশোরীর। কুসংস্কার ও গোঁড়ামির জন্যই যে ওই কিশোরীকে প্রাণ হারাতে হল, তা মেনে নিয়েছে পুলিশও। এক পুলিশকর্তার কথায়, "তামিলনাড়ুর এই এলাকায় খুব বেশি করে এই নিয়ম পালন করা হয়। কোনও মেয়ে যদি প্রথম বার ঋতুমতী হয়, তখন তার পরিবার তাকে বাড়ির বাইরে অন্য একটি জায়গায় থাকতে বলে। প্রায় এক সপ্তাহ আলাদা থাকার পরে নিজের বাড়িতে ঢুকতে পারে ওই কিশোরী। এর ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছিল। কিন্তু বিপর্যয়ের কথা ভেবে মেয়েটিকে ঘরে আনা উচিত ছিল।" এই ঘটনাটি যে সারা দেশ জুড়ে মহিলাদের বিরুদ্ধে ঘটে চলা অবদমনেরই একটা ধরন, সে কথাই মনে করিয়ে দেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের এক কর্মী কাব্য মেনন। তিনি বলেন, "ঘূর্ণিঝড়ে ওর মৃত্যু হয়নি। ওকে মেরেছে ওর সমাজ। মহিলাদের ওপর সামাজিক হিংসার একটা অন্যতম উদাহরণ এটা।" কিন্তু মর্মান্তিক এই ঘটনার পরেও এই সমাজের সম্বিত ফেরে কি না সেটাই দেখার।