দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবার কলকাতা শহরের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার বেগে বয়ে গিয়েছে সাইক্লোন উমফান। বৃহস্পতিবার সকালে দেখা যায়, কলকাতা বিমান বন্দরের টারম্যাক ভেসে যাচ্ছে জলে। রানওয়ে ও হ্যাঙ্গারেও জল দাঁড়িয়েছে। একটি জায়গায় বিমানবন্দরের ছাদ ধসে পড়েছে। একটি বিমান দাঁড়িয়ে আছে একহাঁটু জলের মধ্যে।
বিমানবন্দরের কর্তারা জানিয়েছেন, দু’টি হ্যাঙ্গারের এত ক্ষতি হয়েছে যে সারানো সম্ভব নয়। ঝড়ের জন্য বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটা পর্যন্ত বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়েছিল। এখন এয়ারপোর্টে কেবল মালবাহী বিমান ওঠানামা করছে। ২৫ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে যাত্রীবাহী বিমানের উড়ান।
বুধবার দুপুর আড়াইটে থেকে পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে উমফানের ল্যান্ডফল হতে থাকে। তারপরেই কলকাতায় শুরু হয় ঝড়। বহু গাছ উপড়ে যায়। বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সর্বনাশ হয়ে গেল।” পরে তিনি বলেন, করোনা অতিমহামারীর থেকেও উমফানে ক্ষতি হয়েছে বেশি। মোট ক্ষতির পরিমাণ ১ লক্ষ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তাঁর কথায়, “বহু এলাকা বিপর্যস্ত হয়ে গিয়েছে। সব যোগাযোগ ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে গিয়েছে।” ঝড়ের আগে পাঁচ লক্ষ মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে আনা হয়েছিল। কিন্তু রাজ্য সরকার আগে বুঝতে পারেনি, ঝড় এত মারাত্মক আকার ধারণ করবে।
পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলা উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা, মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি ও কলকাতার ওপর দিয়ে ব্যাপক শক্তি নিয়ে বয়ে গিয়েছে ঘূর্ণিঝড়। এযাবৎ নথিভুক্ত বঙ্গোপসাগরের সাইক্লোনগুলির মধ্যে উমফান ছিল সবচেয়ে সাংঘাতিক। ১৯৯৯ সালের পরে এই প্রথমবার বঙ্গোপসাগরে তৈরি হল সুপার সাইক্লোন। ’৯৯ সালের সাইক্লোনে ওড়িশায় ১০ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিলেন।