দ্য ওয়াল ব্যুরো : রাষ্ট্রপুঞ্জে যে অঙ্গীকার করেছেন, অবিলম্বে পালন করুন। সন্ত্রাসবাদীরা যেন আপনাদের দেশ থেকে অর্থসাহায্য না পায়। না হলে আপনাদের দেশকে কালো তালিকাভূক্ত করা হবে। পাকিস্তানকে এমনই কড়া ভাষায় হুমকি দিল ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স। পাকিস্তানকে যদি সত্যিই ওই সংস্থা কালো তালিকাভূক্ত করে, তাহলে অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাও তাদের ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করবে। ইতিমধ্যেই পাকিস্তানে অর্থনৈতিক সংকট চরমে। এর ওপরে যদি নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে, তাহলে পাকিস্তানের অবস্থা হয় উঠবে শোচনীয়।
ভারতের কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স ইতিমধ্যে পাকিস্তানকে 'ধুসর তালিকাভুক্ত' করেছে। তাদের যাতে কালো তালিকাভুক্ত না করা হয় সেজন্য উদ্যোগ নিয়েছে চিন। কিন্তু তার পরেও পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছে ওই সংস্থা।
এফএটিএফ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা পাকিস্তানের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, তারা যেন ২০১৯ সালের অক্টোবরের মধ্যে প্রতিশ্রুতি পালন করে। এব্যাপারে যথেষ্ট অগ্রগতি না হলে আমরা ঠিক করব, পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে।
ভারত এফএটিএফের অন্যতম সদস্য দেশ। আগে একাধিকবার ওই সংস্থা অভিযোগ করেছে, পাকিস্তান বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর নেতার বিরুদ্ধে যথেষ্ট ব্যবস্থা নিচ্ছে না। হাফিজ মহম্মদ সইদ এবং মৌলানা মাসুদ আজহারের মতো নেতা প্রকাশ্যে পাকিস্তানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
পাকিস্তানে যে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আইন রয়েছে, তারও সমালোচনা করেছে এফএটিএফ। সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাকিস্তান এখনও জঙ্গিদের অর্থসাহায্য করা অপরাধ বলে মনে করে না। হাফিজ সইদ বা মৌলানা মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে কোনও মামলা পর্যন্ত করা হয়নি।
পাকিস্তান দাবি করে, লস্কর ই তৈবা, জামাত উদ দাওয়া, ফালাহ ই ইনসানিয়তের মতো সংগঠনের ৭০০ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। কিন্তু এফএটিএফের বক্তব্য, জঙ্গিরা এখনও কোথা থেকে অর্থ পাচ্ছে, তা নিয়ে পাকিস্তান তদন্ত করেনি কেন? জঙ্গিদের অস্ত্রশস্ত্র এবং বিস্ফোরকও বাজেয়াপ্ত করা হয়নি।
আমেরিকার ফ্লোরিডায় ১৬ থেকে ২১ জুন এফএটিএফের বৈঠক হয়। তার পরেই পাকিস্তানের উদ্দেশে কড়া সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।