দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত তিন দশকে সবচেয়ে বড় আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে কিউবা। দেশে দেখা দিয়েছে ব্যাপক খাদ্যাভাব। বিদ্যুতের উৎপাদন কমছে হু হু করে। তার ওপরে কোভিড সংক্রমণ যথেষ্ট বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে গত ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছে কিউবায়। ‘ডাউন উইথ কমিউনিজম’, ‘উই ওয়ান্ট ফ্রিডম’ স্লোগান দিয়ে পথে নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ। ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে বিপ্লবের পরে এই প্রথমবার কমিউনিস্টবিরোধী বিক্ষোভ দেখা গেল কিউবায়।
কিছুদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেদন জানানো হয়, আর্থিক সংকটে জর্জরিত কিউবার জন্য ত্রাণ পাঠান। কিউবার সরকারের ধারণা হয়, এর পিছনে আছে আমেরিকার ষড়যন্ত্র। ত্রাণের নাম করে কিউবার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোই আমেরিকার উদ্দেশ্য। সেজন্য বিদেশ থেকে খাদ্য ও ওষুধপত্র আমদানির ওপরে কড়াকড়ি করতে থাকে কিউবা সরকার। বিক্ষোভকারীদের দাবি, অবিলম্বে বিদেশ থেকে বিনা শুল্কে খাদ্য, ওষুধ ও স্যানিটাইজেশনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী আমদানি করতে দিতে হবে।
বুধবার কিউবার প্রধানমন্ত্রী ম্যানুয়েল মাররেরো বলেছেন, আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নেওয়া হল। আগামী সোমবার থেকে বিনা শুল্কে বিভিন্ন পণ্য আমদানি করা যাবে।
আন্দোলন চলাকালীন ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল কিউবা। আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট মনিটরিং সংস্থা নেটব্লকস একথা জানিয়েছে। পরে জানা যায়, বুধবার থেকে ইন্টারনেটের ওপরে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে।
কিউবা সরকারের দাবি, বিক্ষোভকারীরা প্রতিবিপ্লবী। তাদের পিছন থেকে অর্থ দিচ্ছে আমেরিকা। আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরে কিউবার ওপরে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে রেখেছে। তার ফলেই আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে কিউবায়। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিয়াজ কানেল টিভিতে ভাষণ দিয়ে বলেন, এই বিক্ষোভের পিছনে আছে আমেরিকা। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, “কিউবার জনগণ তাঁদের অধিকারের দাবিতে সংগ্রাম করছেন। আমেরিকা তাঁদের পাশে আছে।” মার্কিন বিদেশ দফতরের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেন, “ইন্টারনেট বন্ধ করে, মানুষের তথ্য জানার অধিকার কেড়ে নিয়ে এই ন্যায়সঙ্গত বিক্ষোভ দমন করা যাবে না।”
কিউবা সরকারের বিরুদ্ধে ’১৪ ওয়াই মিডিও’ নামে একটি নিউজ ওয়েবসাইট চালান ইওয়ানি স্যাঞ্চেজ। তিনি বলেন, সরকার কয়েকটি বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে বটে, কিন্তু আমরা তাতে সন্তুষ্ট নই। আমরা স্বাধীনতা চাই, এখনই চাই। জনতা আমাদের পক্ষে আছে। আমরা ভীত নই।