সমনামের ঝামেলা—তা না-হয় সিনেমায় শোনা যায়! কিন্তু আদালতকক্ষে দাঁড়িয়ে ‘রাজনৈতিক পরিচয়’ নিয়ে বিভ্রান্তি!
.jpeg.webp)
দুজজনেরই এক নাম, মিঠুন চক্রবর্তী!
শেষ আপডেট: 25 December 2025 14:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হুগলির নিম্ন আদালতের (Hooghly Judge Court) একটি মামলার শুনানিতে হঠাৎ আবহাওয়া বদলে গেল খানিকটা। কাঠগড়ার পাশে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে সিপিএম নেতারা (CPM)। এক এক করে নাম ডাকা হচ্ছে, প্রত্যেকে হাত তুলে জানাচ্ছেন, 'হাজির।' তালিকার একেবারে শেষের দিকে ডাকা হল একটি নাম, মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty)।
বয়স পঁয়তাল্লিশের নেতা হাত তুলে সসম্মানে জানালেন উপস্থিতি। ঠিক তখনই বিচারক একটু থামলেন। মুখে চাপা হাসি, গলায় বিস্ময় মেশানো রসিকতা, “আরে! মিঠুন চক্রবর্তী? আপনি তো বিজেপিতে (BJP) ছিলেন! সিপিএম হলেন কবে?”
আদালতকক্ষের মধ্যে মুহূর্তে ফিসফাস। যিনি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে, তিনি অবশ্য শান্ত গলাতেই জবাব দেন, “নামটা মিলেছে ঠিকই, কিন্তু আমি বরাবরই সিপিএম করি।”
সমনামের ঝামেলা—তা না-হয় সিনেমায় শোনা যায়! কিন্তু আদালতকক্ষে দাঁড়িয়ে ‘রাজনৈতিক পরিচয়’ নিয়ে বিভ্রান্তি!
চলতি অগস্টে হুগলির একটি ঘটনায় পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছিল কয়েকটি বিরোধী দল। সিপিএমও ছিল সেই আন্দোলনের সক্রিয় অংশীদার। সেই মামলাতেই সম্প্রতি আগাম জামিনের আবেদন করেন কয়েক জন বাম নেতা।
তাঁদের মধ্যে ছিলেন সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য মিঠুন চক্রবর্তী। আর তাতেই ঘটল এই ‘সমনাম বিপত্তি’। শেষ পর্যন্ত আদালত জামিন তো মঞ্জুরই করলেন, তবে নামের বিভ্রাটে যে খানিক নাটকীয় মোড় যোগ হল— সে কথা আলাদা করেই বলার মতো!
তবে এ ব্যাপারে মুখ খোলেননি ওই সিপিএম নেতা। তাঁর সংযমী মন্তব্য, “বিচারাধীন বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেওয়া ঠিক নয়।”
রাজনীতিতে পদবি মেলে গেলে বিভ্রান্তি বাড়ে, এ তো জানা কথাই। কিন্তু আদালতকক্ষে নাম ডাকা মাত্রই বিচারকের বিস্ময়, এমন দৃশ্য যে একদিন ‘এই মিঠুনে’র জীবনে ঘটবে, তা বোধ হয় তিনি নিজেও ভাবেননি! রসিকতার সুরে বলছেন মিঠুন ঘনিষ্ঠরা।