"আরও কাছে, আরও কাছে চলে আসুন। হাতে হাত ধরে বলুন, 'কেন্দ্রে বিজেপির বিরুদ্ধে আমরা লড়তে চাই, পথে নেমে প্রকাশ্যে বলুন, আমরা তৃণমূল-সিপিএম ভাই ভাই'।”
.jpeg.webp)
শমীক ভট্টাচার্য।
শেষ আপডেট: 22 August 2025 22:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপি-তৃণমূলের বিরুদ্ধে আঁতাতের অভিযোগে বরাবরই সরব সিপিএম। অন্যদিকে রাম-বাম এক হয়েছে বলে বিভিন্ন সভা থেকে অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। বছর ঘুরলেই বিধানসভা ভোট। এমন আবহে শুক্রবার দমদম ক্যান্টনমেন্টে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্কল্প সভা থেকে তৃণমূল-সিপিএমের (CPM-Trinamool alliance) বিরুদ্ধে আঁতাতের অভিযোগে সরব হলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattachariya)।
শমীক বলেন, দিল্লির মাটিতে আমরা অপার্থিব, অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখলাম। শুধু আমরা দেখিনি, ওপর থেকে দেখছেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যরা। উপ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সিপিএম-তৃণমূল হাতে হাত ধরে দাঁড়িয়েছে আমাদের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দেবে। দিল্লিতে নাটক করে পার্লামেন্টে অচল করছেন আর বাংলায় ন্যারেটিভ তৈরি করার চেষ্টা করছেন।
এরপরই মহম্মদ সেলিম, বিমান বসু থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামোল্লেখ করে শমীকের কটাক্ষ, “পেয়ার কিয়া তো ডরনা কেয়া (,Payer kya to dorna kya)। আরও কাছে, আরও কাছে চলে আসুন। হাতে হাত ধরে বলুন, 'কেন্দ্রে বিজেপির বিরুদ্ধে আমরা লড়তে চাই, পথে নেমে প্রকাশ্যে বলুন, আমরা তৃণমূল-সিপিএম ভাই ভাই'।”
শমীকের অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশ ক্রমেই এগোচ্ছে, আর সেই সময় তৃণমূল, কংগ্রেস ও সিপিএম একজোট হয়ে সংসদকে অচল করার চেষ্টা করছে। চ্যালেঞ্জের সুরে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “মিছিল করুন, একসঙ্গে পথে হাঁটুন, তা না করে লুকিয়ে চুরিয়ে আঁতাত কেন!”
বিজেপি মুসলিম বিদ্বেষী নয়—মোদীর সভা থেকে এ বার্তাও পরিষ্কার করেছেন শমীক। বলেন, “যতদিন বিজেপি থাকবে, হিন্দু-মুসলিমদের বিরুদ্ধে কেউ অনাচার করতে পারবে না।"
একই সঙ্গে এসআইআর প্রসঙ্গেও সরব হয়েছেন তিনি। এসআইআর প্রসঙ্গে বিরোধীদের সংসদ অচল করার চেষ্টা নিয়ে তিনি বলেন, “ভারতবর্ষ ধর্মশালা নয়। যারা ইচ্ছে মতো ঢুকে পড়বে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে।”
সভায় উপস্থিত কর্মীদের আশ্বস্ত করে শমীক বলেন, “আপনারা তৈরি থাকুন, তৃণমূল হারবেই। ২৬-এর বিধানসভা ভোটে এদের বিসর্জন নিশ্চিত। পৃথিবীর কোনও শক্তি এদের রক্ষা করতে পারবে না।”
দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষও করেন শমীক। বলেন, “পুরী থেকে জগন্নাথকে তুলে এনেছেন। তাতেও রক্ষা হবে না। ২৬-এ বঙ্গোপসাগরে বিসর্জন হবেই।”
অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ টেনে মোদীর উদ্দেশে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সীমান্তে ৫৪০ কিমি এলাকায় জমি না দিয়ে অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যাচার থেকে মুক্তি চাই। বাংলাকে বাঁচাতে পারেন শুধু আপনি।” মুখ্যমন্ত্রীকে হীরক রানি বলে কটাক্ষ করেন শুভেন্দু, “দড়ি ধরে মারো টান…” এবং হুঁশিয়ারি দেন, অনুপ্রবেশ রুখতে বাংলায় এসআইআর হবে। কোনও শক্তি তা রুখতে পারবে না।