তহবিলের অভাবে একসময় নিজেদের পার্টি অফিস ভাড়া দিতে বাধ্য হয়েছিলেন সিপিএম নেতারা। সেই সিদ্ধান্তই এখন দলের কাছে বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শেষ আপডেট: 15 January 2026 12:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: ভাড়াটিয়া বাড়ি না ছাড়ায় বিপাকে সিপিএম। গুসকরার পার্টি অফিস ফিরে পেতে এখন রীতিমতো নাজেহাল সিপিএম নেতৃত্বের। তহবিলের অভাবে একসময় নিজেদের পার্টি অফিস ভাড়া দিতে বাধ্য হয়েছিলেন সিপিএম নেতারা। সেই সিদ্ধান্তই এখন দলের কাছে বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গুসকরা শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লজপাড়ায় সিপিএমের তিনতলা পার্টি অফিস ‘রবীন সেন ভবন’। ১৯৯৯ সালের মে মাসে প্রাক্তন মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ চৌধুরীর হাত ধরে ভবনটির উদ্বোধন হয়। দীর্ঘদিন ধরে এখান থেকেই গুসকরা শহরে সিপিএমের সাংগঠনিক কাজকর্ম পরিচালিত হত। ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সিপিএমের সংগঠন দুর্বল হতে শুরু করে। আর্থিক সংকট কাটাতে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে গুসকরার বাসিন্দা, পেশায় প্রোমোটার স্বপন পালকে বছরে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকায় ভবনটি লিজ দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে লিজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তিনি ভবনটি আর দলকে ফিরিয়ে দেননি।
গুসকরা শহর সিপিএমের এরিয়া কমিটির সম্পাদক ইরফান শেখ জানান, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভাড়াটিয়াকে ভবন ছাড়ার কথা জানানো হয়েছিল। দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় লিজের মেয়াদ আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভবন খালি করে বকেয়া ভাড়া মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু কেউ তা কানে তোলেনি।
অন্যদিকে, ভাড়াটিয়া স্বপন পালের বক্তব্য, তিনি একাধিকবার দলের সঙ্গে যোগাযোগ করে লিজ নবীকরণের আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, লিজ নবীকরণ হলে তিনি সমস্ত বকেয়া ভাড়া মিটিয়ে দিতে এবং ভবিষ্যতেও নিয়মমাফিক ভাড়া দিতে প্রস্তুত। চুক্তির মেয়াদকালে নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করেছেন বলেও তাঁর দাবি, যার রসিদ তাঁর কাছে রয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতা হারানোর পর শহরের একাধিক জায়গায় পার্টি অফিস থাকায় এই ভবনটি ভাড়া দিয়ে দলের খরচ তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তই এখন সিপিএম নেতৃত্বের কাছে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিপিএমকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি শাসক দল। তৃণমূল নেতা বাগবুল ইসলাম বলেন, “সিপিএম পুঁজি বোঝে বলেই পার্টি অফিস ভাড়া দিয়েছিল। এখন সেই পুঁজির খেলাতেই তারা আটকে গেছে। ওদের সংগঠন দুর্বল, লোক নেই। তবে যদি সিপিএম আমাদের সহযোগিতা চায়, তাহলে পৌরসভার তরফে বিষয়টি দেখতে পারি।”