সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অভিযানে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। পাঁচটি ঠিকানার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হচ্ছে আলিপুর নিউ রোডের প্লট নম্বর ২৮-এ অবস্থিত একটি বিলাসবহুল বহুতল আবাসন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 15 January 2026 11:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইডির (ED) পর এবার কলকাতায় তৎপরতা বাড়াল সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (CBI)। ব্যাঙ্ক জালিয়াতি ও বহু কোটি টাকার আর্থিক তছরুপ সংক্রান্ত একটি মামলায় (Bank Fraud Case) বুধবার শহরের পাঁচটি জায়গায় একযোগে ‘কম্বিং সার্চ’ (CBI Search Operation) চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অভিযানে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। পাঁচটি ঠিকানার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হচ্ছে আলিপুর নিউ রোডের প্লট নম্বর ২৮-এ অবস্থিত একটি বিলাসবহুল বহুতল আবাসন। ‘গণেশ কোর্ট’ (Ganesh Court Building) নামে ওই আবাসনের পাঁচতলায় এক ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেছেন সিবিআই আধিকারিকরা। বাইরে ছয় জন আধাসেনা জওয়ান মোতায়েন রয়েছেন, ভিতরেও রয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা।
এই মামলার সূত্রপাত ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর দায়ের হওয়া একটি লিখিত অভিযোগ থেকে। অভিযোগটি করেছিলেন ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কের (তৎকালীন এলাহাবাদ ব্যাঙ্ক) ঝাড়খণ্ডের রাঁচি শাখার স্ট্রেসড অ্যাসেটস ম্যানেজমেন্ট ভার্টিক্যালের চিফ ম্যানেজার ও ব্রাঞ্চ হেড সুরেশ চন্দ্র চৌহান। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে রাজেশ্বরী আয়রন অ্যান্ড স্টিল কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের ডিরেক্টর সুমিত কেজরিওয়াল ও আশা কেজরিওয়াল, গ্যারান্টার প্রভাস কুমার মুখোপাধ্যায় এবং আরও কয়েক জন অজ্ঞাত সরকারি ও বেসরকারি ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশ করে ব্যাঙ্কের সঙ্গে প্রতারণা করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, জাল নথির ভিত্তিতে ঋণ নিয়ে এবং সেই নথিগুলিকে বৈধ হিসেবে ব্যবহার করে জামশেদপুরের মেইন ব্রাঞ্চ থেকে প্রায় ৫৬১.৭১ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। তদন্তে হিসাব জালিয়াতি, বিশ্বাসভঙ্গ, কোম্পানি আইনের নিয়ম না মানার মতো একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে।
এই ঘটনায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০-বি ধারা-সহ ৪০৯, ৪২০, ৪৬৫, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন আইন, ১৯৮৮-র ১৩(২) এবং ১৩(১)(ডি) ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় সংস্থা ও তার দুই ডিরেক্টরের পাশাপাশি একজন ভুয়ো পরিচয়ধারী এবং আরও অজ্ঞাত সরকারি ও বেসরকারি ব্যক্তির নাম রয়েছে।
ডিএসপিই আইন অনুযায়ী কেন্দ্র ও ঝাড়খণ্ড সরকারের অনুমোদন নিয়েই এই তদন্ত চালাচ্ছে সিবিআই। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে রাঁচির সিবিআইয়ের এসিবি শাখার ডিএসপি আর এস সোলাঙ্কিকে।
এই মামলার সূত্র ধরেই কলকাতায় অভিযান চালানো হচ্ছে বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে। তল্লাশিতে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য মিলতে পারে বলেই মনে করছে সিবিআই। শহরে পরপর কেন্দ্রীয় সংস্থার তৎপরতায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও নজরদারি বেড়েছে।