বিজেপির রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব নিয়েই বৃহস্পতিবার বাম-কংগ্রেসের উদ্দেশে শমীক ভট্টাচার্যর বার্তা ছিল, “নো ভোট টু বিজেপি” স্লোগান তুলে বাম-কংগ্রেস যেন তৃণমূলের হাত শক্ত না করে।

শমীক ভট্টাচার্য ও সৃজন ভট্টাচার্য। গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 4 July 2025 20:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপির রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব নিয়েই বৃহস্পতিবার বাম-কংগ্রেসের উদ্দেশে শমীক ভট্টাচার্যর (Shamik Bhattacharya) বার্তা ছিল, “নো ভোট টু বিজেপি” স্লোগান তুলে বাম-কংগ্রেস যেন তৃণমূলের হাত শক্ত না করে। উলটে তাঁর মতে, এখন সময় ‘তৃণমূল হটাও, তৃণমূলকে বিসর্জন দাও’-র স্লোগানের।
শমীক ভট্টাচার্য়র ওই বক্তব্যকে হাতিয়ার করেই এবার পাল্টা জবাব দিতে দেরি করলেন না সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য (Srijan Bhattacharya)। খোঁচা দিয়ে বললেন, “বিজেপির রাজ্য সভাপতি আসলে বামফ্রন্ট সরকার ফেরানোর আবেদন করছেন!”
আনুষ্ঠানিকভাবে বৃহস্পতিবার বিজেপির রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব নেন শমীক। তারপরই নিজের ভাষণে বাম-কংগ্রেসের উদ্দেশে শমীক বলেন, “সিপিএমের ভাই-বোন ও কংগ্রেসি বন্ধুদের বলছি—ভোট কাটার নামে তৃণমূলকে ফিরিয়ে আনবেন না। যদি তা-ই করতে চান, তবে সরাসরি মমতার সঙ্গে মিছিল করুন।” তাঁর এই মন্তব্যে কটাক্ষ মিলেছে সিপিএম শিবির থেকে।
সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, “শমীকবাবু বলছেন, মহরমের তাজিয়া ও পুজোর মিছিল একসঙ্গে বের হোক। এমন বাংলা তো জ্যোতিবাবুর, বুদ্ধবাবুর আমলেও ছিল। তাহলে কি তিনি সেই সময়ের বাংলাকে ফিরে পেতে চাইছেন? আমাদের শুনে খুব ভাল লাগছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি আদতে বামফ্রন্ট ফিরিয়ে আনারই ডাক দিচ্ছেন।”
তৃণমূল-বিরোধিতায় একজোট হওয়ার ডাক দিয়ে শমীক যেভাবে ‘নো ভোট টু বিজেপি’-র বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন, তাতে স্পষ্ট, নিজের স্ট্র্যাটেজি স্পষ্ট করতে চাইছেন তিনি। যদিও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন—বাম-কংগ্রেসের বিরোধিতায় শমীকের সুর কি তবে বিজেপির ‘লিবারাল হিন্দু’ ভাবমূর্তি গড়ার চেষ্টা?
সিপিএম নেতা সৃজনের পালটা, “যাঁরা তৃণমূলকে হারাতে চান, বুঝে গিয়েছেন বিজেপির পক্ষে সেটা আর সম্ভব নয়। ওরা শুধু জিতব জিতব করে, কিন্তু জিততে পারে না।” এরপরেই তাঁর চ্যালেঞ্জ—“বিজেপির যাঁরা সত্যিই পরিবর্তন চান, তাঁদের বলছি, দলের পতাকা সরিয়ে সিপিএমে আসুন। আমরা তৃণমূল হঠানোর লড়াই লড়ছি। আপনাদেরও দরকার।”
ভোট-পরিসংখ্যান মনে করিয়ে দিচ্ছে, ২০১৬ সালের পর থেকে বাম ভোট কিন্তু বারবার গিয়েছে পদ্মের দিকে। ফলে কৌশলে সেই ভোট ফেরানোর বার্তায় সৃজন দিলেন কিনা, তা নিয়েও চর্চা হচ্ছে।