
শেষ আপডেট: 19 October 2021 07:40
দুর্গাপুজোয় ভিড়ে ধাক্কাধাক্কি করে ঠাকুর দেখা, মাস্ক ছাড়াই হুল্লোড়ের ফল মিলছে এখন। পিয়ারলেসের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ চন্দ্রমৌলী ভট্টাচার্য বলছেন, করোনা সংক্রমণের হার সাঙ্ঘাতিক ভাবে বেড়েছে। এ শহরেই উপসর্গহীন রোগীর সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘুসঘুসে জ্বর, কাশি নিয়ে করোনা পরীক্ষা করাতে আসছেন অনেকে। উপসর্গ নেই অথচ মৃদু বা মাঝারি সংক্রমণও ধরা পড়ছে অনেকের। আরএন টেগোর ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কার্ডিয়াক সায়েন্সসে দিনে অন্তত ৫০ জনের আরটি-পিসিআর টেস্ট করা হচ্ছে।
নারায়ণ হেলথের রিজিওনাল ডিরেক্টর আর ভেঙ্কটেশ বলেছেন, পুজোর আগে দিনে অন্তত ২০০ জনের কোভিড টেস্ট করা হত। এখন পুজোর পরে সেই সংখ্যাই বেড়ে ৫০০ জনে দাঁড়িয়েছে। কলকাতার বাইরে থেকেও করোনা পরীক্ষা করাতে আসছেন অনেকে।
বেলভিউ ক্লিনিকে পুজোর দিনগুলোতে কম করেও ৯ জনের কোভিড টেস্ট হচ্ছিল। পুজো মিটতেই একদিনে ৬২ জনের করোনা পরীক্ষা করানো হয়েছে।
রাজ্যের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড অ্যাকটিভ টেস্টিং বাড়াতে হবে। অ্যাকটিভ টেস্ট মানে হল, সরকারি, বেসরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্বাস্থ্যকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোভিড টেস্টের ব্যবস্থা করবে। এখন রাজ্যে যা হচ্ছে তা হল প্যাসিভ টেস্টিং। মানে কেউ যদি মনে করেন তাঁর উপসর্গ রয়েছে তাহলে তিনি টেস্ট করাচ্ছেন। পরিষেবা নিতে আসা লোকজনের টেস্ট করা হচ্ছে। এটা হল ‘প্যাসিভ সার্ভিস’। সরকারি বিভিন্ন হাসপাতালেও টেস্টিং এর কোটা আছে। একটা নির্দিষ্ট সংখ্যার পরে বাকিদের টেস্ট হচ্ছে না বা পিছিয়ে যাচ্ছে। এইভাবে বহু রোগীকে শণাক্ত করা যাচ্ছে না। দেখা গেছে, মামুলি সর্দি-কাশি হয়েছে বলে কোভিড টেস্ট করাননি, এমন ব্যক্তির শরীরে পরে কোভিডের সংক্রামক স্ট্রেন ধরা পডে়ছে। ধরা যাক, সর্দি ও জ্বর নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসা ১০ জন রোগীকেও যদি টেস্ট করা হয়, অন্তত পাঁচজন তো কোভিড পজিটিভ বের হবেই। এই চিহ্নিতকরণটাই দরকার। তাছাড়া দোকানে, সবজি বাজারে, বাসস্ট্যান্ডে, জনবহুল এলাকায় করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা দরকার। পরিবহন কর্মী, পুলিশ-স্বাস্থ্যকর্মী, বস্তি এলাকাগুলোতে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। অফিসগুলোও যদি এই ব্যাপারে উদ্যোগ নেয় তাহলে ভাল হয়। অর্থাৎ রুটিন টেস্ট চালু করতে হবে, যেভাবে রুটিন মেডিক্যাল চেক আপ করা হয়। সার্বিকভাবে রাজ্যের সমস্ত জায়গায় এই প্রক্রিয়া শুরু করলে দ্রুত কাজ হবে।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'