Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
রহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্ট

রক্তের গ্রুপ 'ও' হলে কোভিড ঝুঁকি কম, 'এ' হলে তুলনায় বেশি, গবেষণায় দাবি বিজ্ঞানীদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণ মানুষের জেনেটিক ফ্যাক্টরের সঙ্গে জড়িত কিনা সেটাই এখন গবেষকদের চিন্তার বিষয়। শরীরের ভেতরে সংক্রমণ কতটা ছড়াবে এবং কোথায় কোথায় ছড়াবে সেটা নির্ভর করে দেহকোষের রিসেপটর প্রোটিনের উপস্থিতির উপর, এমন তথ্য আগেই দিয়ে

রক্তের গ্রুপ 'ও' হলে কোভিড ঝুঁকি কম, 'এ' হলে তুলনায় বেশি, গবেষণায় দাবি বিজ্ঞানীদের

শেষ আপডেট: 8 June 2020 18:30

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণ মানুষের জেনেটিক ফ্যাক্টরের সঙ্গে জড়িত কিনা সেটাই এখন গবেষকদের চিন্তার বিষয়। শরীরের ভেতরে সংক্রমণ কতটা ছড়াবে এবং কোথায় কোথায় ছড়াবে সেটা নির্ভর করে দেহকোষের রিসেপটর প্রোটিনের উপস্থিতির উপর, এমন তথ্য আগেই দিয়েছিলেন গবেষকরা। নতুন গবেষণায় দাবি, মানুষের রক্তের গ্রুপের সঙ্গেও করোনার সংক্রমণের একটা যোগসূত্র আছে। রক্তের গ্রুপের সঙ্গে ভাইরাস সংক্রমণের যোগসূত্রের কথা বলেছে ক্যালিফোর্নিয়ার জেনেটিক-টেস্টিং জায়ান্ট ২৩অ্যান্ডমি (23andMe)। বিশ্বের মধ্যে  জিন টেস্টিং ও জেনেটিক সিকুয়েন্সিংয়ের অন্যতম বড় সংস্থা ২৩অ্যান্ডমি। সার্স-কভ-২ ভাইরাস সংক্রমণের সঙ্গে মানুষের জেনেটিক ফ্যাক্টর জড়িত কিনা সে নিয়ে গবেষণা চলছিল এই সায়েন্স রিসার্চ ফার্মে। কয়েক লক্ষ কোভিড পজিটিভ রোগীর ডিএনএ ডেটাবেস বানিয়েছে এই সংস্থা। করোনা আক্রান্ত রোগীদের জিনের গঠন বিন্যাস বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জিন এবং রক্তের গ্রুপের সঙ্গে ভাইরাসের সম্পর্ক রয়েছে। সেটা কীভাবে? রক্তের শ্রেণিবিন্যাস চিহ্নিত করে যে এবিও (ABO) জিন, তার উপরে নির্ভর করে কোন ব্যক্তির শরীরে সংক্রমণ চট করে ধরে নেবে, আর কার শরীরে সংক্রমণের ঝুঁকি তেমনভাবে নেই। এই এবিও জিন (আলফা ১-৩-এন-অসিটাইলগ্যালাকটোসামিনাইলট্রান্সফারেজ এবং অলফা ১-৩ গ্যালাকটোসিল ট্রান্সফারেজ) হল প্রোটিন-কোডিং জিন। এই জিন এবিও ব্লাড গ্রুপ (ABO Blood Group) নির্ধারণ করে। রক্তের এই শ্রেণিবিন্যাস নির্ভর করে লোহিত রক্ত কণিকা বা এরিথ্রোসাইটের উপর। লোহিত রক্তকণিকার সারফেসে উপস্থিত অ্যান্টিজেন এ বা অ্যান্টিজেন বি-এর উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির উপরেই নির্ভর করে রক্তের গ্রুপ টাইপ এ, টাইপ বি, টাইপ এবি বা টাইপ ও। বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, সংক্রমণ কতটা ছড়াবে বা কোন ব্যক্তির শরীরে ছড়াবে সেটা নাকি অনেকটাই নির্ভর করে এই রক্তের গ্রুপের উপরে। সাড়ে সাত লাখ কোভিড রোগীর ডিএনএ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, ‘ও’ (O Blood) রক্তের গ্রুপ যাদের আছে, তাদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ ছড়াবার ঝুঁকি কম। আবার এমনও দেখা গেছে, ‘এ’ (A Blood) রক্তের গ্রুপ যাদের, তাদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি নাকি অনেকটাই বেশি। বিজ্ঞানীদের দাবি, এ-গ্রপের মধ্যেই নাকি করোনার সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। তুলনামূলকভাবে ও-গ্রুপ অনেকটাই সুরক্ষিত। [caption id="attachment_228257" align="aligncenter" width="854"] এবিও জিন[/caption] যে কোনও ভাইরাসই সংক্রমণ ছড়াবার জন্য বাহক খুঁজে নেয়। করোনাভাইরাসের সংক্রামক ভাইরাল স্ট্রেন সার্স-কভ-২ মানুষের শরীরেই তাদের পছন্দের বাহক কোষ খুঁজে পেয়েছে। দেহকোষের ACE-2 (অ্যাঞ্জিওটেনসিন-কনভার্টিং এনজাইম) রিসেপটর প্রোটিনের সঙ্গে ভাইরাসের স্পাইক-গ্লাইকোপ্রোটিন যুক্ত হয়ে গিয়ে কোষে কোষে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, সংক্রমণ কীভাবে মানুষের শরীরে ছড়াবে সেটা নির্ভর করে কয়েকটা ফ্যাক্টরের ওপর। যেমন, রিসেপটর প্রোটিন, রোগীর বয়স, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ইত্যাদি। গবেষকরা বলছেন, এই ফ্যাক্টরগুলো ছাড়াও জিনের প্রভাবও রয়েছে। যদিও সে বিষয় বিস্তারিত তথ্য এখনও মেলেনি। তবে গবেষকদের দাবি, রক্তের গ্রুপও একটা বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। ২৩অ্যান্ডমি জেনেটিক রিসার্চ ফার্মের গবেষকরা দাবি করেছেন, স্পেন ও ইতালির ১৬০০ জন কোভিড পজিটিভ রোগী যারা সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হয়েছিল, তাদের রক্তের গ্রুপ ছিল ‘এ’ । এমনকি এও দেখা গেছে, এই রক্তের গ্রুপের রোগীদের ৫০ শতাংশকেই ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দিতে হয়েছিল। গবেষক অ্যাডাম অটন দাবি করেছেন, ও-গ্রুপের মধ্যে সংক্রমণের হার তুলনায় কম দেখা গেছে। করোনার সংক্রমণে রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি করেছিলেন আয়ারল্যান্ডের রয়্যাল কলেজ অব সার্জেনস ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা।  ‘ব্রিটিশ জার্নাল অব হেমাটোলজি’তে এই গবেষণার রিপোর্ট সামনে এনে বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন, করোনা পজিটিভ অনেক রোগীরই  ফুসফুসে ‘মাইক্রো-ক্লট’ হচ্ছে, যার কারণে দেখা গেছে সংক্রমণের কিছুদিনের মধ্যেই রোগীর ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধতে শুরু করেছে। ফলে অক্সিজেন আর ফুসফুসে ঢুকতে পারছে না, যার কারণে তীব্র শ্বাসকষ্টে কিছুদিনের মধ্যেই রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। ফুসফুস শুধু নয়, মস্তিষ্ক ও হৃৎপিণ্ডেও রক্ত জমাট বাঁধতে দেখা গেছে। আয়ারল্যান্ডের গবেষকদের মতোই এই ব্লাড-ক্লটের তথ্য সামনে এনেছেন নিউ ইয়র্কের বিজ্ঞানীরাও। মাউন্ট সিনাইয়ের নেফ্রোলজিস্টরা বলছেন, করোনা পজিটিভ রোগীর কিডনি ডায়ালিসিস করতে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানেও ব্লাট ক্লট হয়ে রয়েছে। মাউন্ট সিনাইয়ের নিউরোসার্জন ডাক্তার জে মোক্কো বলেছেন, খুবই আশ্চর্যের ব্যাপার যে এই ভাইরাসের সংক্রমণে রোগীর শরীরের নানা অঙ্গে রক্ত জমাট বেঁধে যাচ্ছে। হার্টেও রক্ত জমাট বেঁধে হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন করোনা রোগী।

```