
শেষ আপডেট: 8 June 2020 18:30
এই এবিও জিন (আলফা ১-৩-এন-অসিটাইলগ্যালাকটোসামিনাইলট্রান্সফারেজ এবং অলফা ১-৩ গ্যালাকটোসিল ট্রান্সফারেজ) হল প্রোটিন-কোডিং জিন। এই জিন এবিও ব্লাড গ্রুপ (ABO Blood Group) নির্ধারণ করে। রক্তের এই শ্রেণিবিন্যাস নির্ভর করে লোহিত রক্ত কণিকা বা এরিথ্রোসাইটের উপর। লোহিত রক্তকণিকার সারফেসে উপস্থিত অ্যান্টিজেন এ বা অ্যান্টিজেন বি-এর উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির উপরেই নির্ভর করে রক্তের গ্রুপ টাইপ এ, টাইপ বি, টাইপ এবি বা টাইপ ও। বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, সংক্রমণ কতটা ছড়াবে বা কোন ব্যক্তির শরীরে ছড়াবে সেটা নাকি অনেকটাই নির্ভর করে এই রক্তের গ্রুপের উপরে।
সাড়ে সাত লাখ কোভিড রোগীর ডিএনএ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, ‘ও’ (O Blood) রক্তের গ্রুপ যাদের আছে, তাদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ ছড়াবার ঝুঁকি কম। আবার এমনও দেখা গেছে, ‘এ’ (A Blood) রক্তের গ্রুপ যাদের, তাদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি নাকি অনেকটাই বেশি। বিজ্ঞানীদের দাবি, এ-গ্রপের মধ্যেই নাকি করোনার সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। তুলনামূলকভাবে ও-গ্রুপ অনেকটাই সুরক্ষিত।
[caption id="attachment_228257" align="aligncenter" width="854"]
এবিও জিন[/caption]
যে কোনও ভাইরাসই সংক্রমণ ছড়াবার জন্য বাহক খুঁজে নেয়। করোনাভাইরাসের সংক্রামক ভাইরাল স্ট্রেন সার্স-কভ-২ মানুষের শরীরেই তাদের পছন্দের বাহক কোষ খুঁজে পেয়েছে। দেহকোষের ACE-2 (অ্যাঞ্জিওটেনসিন-কনভার্টিং এনজাইম) রিসেপটর প্রোটিনের সঙ্গে ভাইরাসের স্পাইক-গ্লাইকোপ্রোটিন যুক্ত হয়ে গিয়ে কোষে কোষে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, সংক্রমণ কীভাবে মানুষের শরীরে ছড়াবে সেটা নির্ভর করে কয়েকটা ফ্যাক্টরের ওপর। যেমন, রিসেপটর প্রোটিন, রোগীর বয়স, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ইত্যাদি। গবেষকরা বলছেন, এই ফ্যাক্টরগুলো ছাড়াও জিনের প্রভাবও রয়েছে। যদিও সে বিষয় বিস্তারিত তথ্য এখনও মেলেনি। তবে গবেষকদের দাবি, রক্তের গ্রুপও একটা বড় ফ্যাক্টর হতে পারে।
২৩অ্যান্ডমি জেনেটিক রিসার্চ ফার্মের গবেষকরা দাবি করেছেন, স্পেন ও ইতালির ১৬০০ জন কোভিড পজিটিভ রোগী যারা সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হয়েছিল, তাদের রক্তের গ্রুপ ছিল ‘এ’ । এমনকি এও দেখা গেছে, এই রক্তের গ্রুপের রোগীদের ৫০ শতাংশকেই ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দিতে হয়েছিল। গবেষক অ্যাডাম অটন দাবি করেছেন, ও-গ্রুপের মধ্যে সংক্রমণের হার তুলনায় কম দেখা গেছে।
করোনার সংক্রমণে রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি করেছিলেন আয়ারল্যান্ডের রয়্যাল কলেজ অব সার্জেনস ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা। ‘ব্রিটিশ জার্নাল অব হেমাটোলজি’তে এই গবেষণার রিপোর্ট সামনে এনে বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন, করোনা পজিটিভ অনেক রোগীরই ফুসফুসে ‘মাইক্রো-ক্লট’ হচ্ছে, যার কারণে দেখা গেছে সংক্রমণের কিছুদিনের মধ্যেই রোগীর ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধতে শুরু করেছে। ফলে অক্সিজেন আর ফুসফুসে ঢুকতে পারছে না, যার কারণে তীব্র শ্বাসকষ্টে কিছুদিনের মধ্যেই রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। ফুসফুস শুধু নয়, মস্তিষ্ক ও হৃৎপিণ্ডেও রক্ত জমাট বাঁধতে দেখা গেছে। আয়ারল্যান্ডের গবেষকদের মতোই এই ব্লাড-ক্লটের তথ্য সামনে এনেছেন নিউ ইয়র্কের বিজ্ঞানীরাও। মাউন্ট সিনাইয়ের নেফ্রোলজিস্টরা বলছেন, করোনা পজিটিভ রোগীর কিডনি ডায়ালিসিস করতে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানেও ব্লাট ক্লট হয়ে রয়েছে। মাউন্ট সিনাইয়ের নিউরোসার্জন ডাক্তার জে মোক্কো বলেছেন, খুবই আশ্চর্যের ব্যাপার যে এই ভাইরাসের সংক্রমণে রোগীর শরীরের নানা অঙ্গে রক্ত জমাট বেঁধে যাচ্ছে। হার্টেও রক্ত জমাট বেঁধে হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন করোনা রোগী।