
শেষ আপডেট: 9 June 2020 18:30
গ্রেট অরমোন্ড স্ট্রিট হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডগুলিতে এই পরীক্ষা চালিয়েছে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন। গবেষকরা বলেছেন, ভাইরাস কত দ্রুতগতিতে এবং কীভাবে ছড়াচ্ছে সেটা জানতে প্ল্যান্ট-ভাইরাসের ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড) কাজে লাগানো হয়। সাধারণত দেখা যায় উদ্ভিদের নানা রোগের জন্য দায়ী যেসব ভাইরাস তারা খুব একটা মানুষের শরীরে সংক্রমণ ছড়ায় না। তবে ব্যতিক্রমও আছে। পেপার মাইল্ড মোটল ভাইরাস (PMMoV) মানুষকে সংক্রামিত করতে পারে বলে মনে করেন অনেক বিজ্ঞানী। এই নিয়ে অবশ্য নানা মত আছে বিজ্ঞানীদের।
ডক্টর লীনা বলেছেন এমন ভাইরাসকে বেছে নেওয়া হয়েছিল পরীক্ষার জন্য যা মানুষকে সংক্রামিত করতে পারবে না। এই ভাইরাসের ডিএনএ নির্দিষ্ট মাত্রায় মিউকাস বা ওই জাতীয় তরলের মিশ্রণে মিলিয়ে ড্রপলেট তৈরি করা হয়। ঠিক যেমনভাবে করোনার ড্রপলেট সংক্রমণ ছড়ায়, তেমনভাবেই প্ল্যান্ট-ভাইরাসের ডিএনএ দিয়ে ড্রপলেট বানানো হয়। এই ড্রপলেটের ধরন করোনারই মতো, এবং ওই ভাইরাল স্ট্রেনকে বিশেষ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে করোনার স্ট্রেনের মতোই রূপ দেওয়া হয়। এবার হাসপাতালের কোভিড আইসোলেশন ওয়ার্ড বা যে ওয়ার্ডে সঙ্কটাপন্ন রোগীদের রাখা হয়েছে সেখানকার মেঝেতে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। অবশ্য তার আগেই রোগীদের ওয়ার্ড থেকে অন্যত্র স্থানান্তরিত করা হয়। গবেষকরা বলেছেন, দশ ঘণ্টার মধ্যে দেখা যায় যেখানে যেখানে ড্রপলেট ছড়ানো হয়েছিল সেখানকার প্রায় ৪১ শতাংশ জায়গা জুড়ে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। ওই দশ ঘণ্টার মধ্যেই হাজারেরও বেশি প্রতিলিপি তৈরি করে সংখ্যায় বেড়েছে ভাইরাস।
দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় দিনের মধ্যে দেখা যায় গোটা ওয়ার্ডেরই প্রায় ৮৬ শতাংশ জায়গাজুড়ে ভাইরাল স্ট্রেন ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসার সরঞ্জামের উপরেও জমে গেছে ভাইরাসের সংক্রামক স্ট্রেন। গবেষকরা বলছেন, এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে সংক্রামিত রোগীদের আশপাশে কত দ্রুত হারে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। কোভিড আইসোলেশন ওয়ার্ডগুলিতে এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার হার অনেক বেশি। সেখানে যাঁরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন তাঁদের মধ্যেও তাই ক্রমশই সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করেছে। একে রোখার উপায় হল পরিচ্ছন্নতার দিকে খেয়াল রাখা, এবং বারে বারেই হাসপাতালের প্রতিটি কেবিন, ওয়ার্ড স্যানিটাইজ করা। রোগীদের বেড থেকে দরজার হাতল, অপারেশন টেবিল, চিকিৎসার প্রতিটি সরঞ্জাম, ওয়ার্ডের মেঝে, বাথরুম ঘণ্টায় ঘণ্টায় স্যানিটাইজ করার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ গবেষকরা বলছেন, ইনকিউবেশন পিরিয়ডের মধ্যেই ভাইরাস সংক্রামিত কোনও পদার্থ বা সারফেসের সংস্পর্শে এলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।