দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা ক্রমেই কমতির দিকে, এমন আশাই দেখিয়েছিল স্বাস্থ্যমন্ত্রক। তবে গত ২৪ ঘণ্টার রিপোর্টে বোঝা গেল মৃত্যুমিছিল এখনও থামেনি ফুটবলের দেশে। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের রিপোর্ট বলছে, একদিনে মৃতের সংখ্যা একলাফে বেড়ে হয়েছে ৭৫৭।
জন হপকিনস ইউনিভার্সিটির রিপোর্ট বলছে, বুধবারের হিসেবে স্পেনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট মৃতের সংখ্যা ছুঁয়েছে ১৪,৫৫৫। সংক্রামিতের সংখ্যাও বেড়েছে। মঙ্গলবারের হিসেবে যেখানে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল এক লক্ষ ৪০ হাজার ৫১০ জন, এদিন বেড়ে হয়েছে এক লক্ষ ৪৬ হাজার ৬৯০।
স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানাচ্ছে, ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর গ্রাফ কিছুটা হলেও কমতির দিকে। ৫.৭% থেকে কমে হয়েছে ৫.৫%।
ইতালির পরেই মৃত্যুর সংখ্যায় এবং সংক্রমণের নিরিখে চিনকে ছাপিয়ে গেছে স্পেন। জন হপকিনস ইউনিভার্সিটির রিপোর্ট বলছে, বিশ্বের যে’কটি দেশে করোনার সংক্রমণ রেকর্ড ছাড়িয়েছে তার মধ্যে ইতালির পরেই রয়েছে স্পেন। দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের জরুরি বিভাগের আধিকারিক মারিয়া জোস সিয়েরা বলেছেন, একদিনে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লেও, আক্রান্তের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমছে। ভাইরাসের মোকাবিলার জন্য সবরকমের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
গোটা বিশ্ব যখন করোনার আতঙ্কে কাঁপছে, স্পেন তখনও মেতে ছিল ফুটবলে। এমন মৃত্যুর ছায়া নেমে আসবে, ঘুণাক্ষরেও টের পাননি কেউ। তাই হয়ত সঠিক সময় লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয়নি সে দেশের সরকার। বিপুল সামাজিক মেলামেশায় এখন ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রমণ। হাসপাতাল-নার্সিংহোমে ঠাসাঠাসি ভিড়। আইসোলেশন বেডের অভাব, কোয়ারেন্টাইন বেডে নতুন রোগীদের রাখার জায়গা নেই। সংক্রমণ মৃদু হলে ঘরেই কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন ডাক্তার, স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। প্রতিদিন এত সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে যে মর্গে স্থান সংকুলান হচ্ছে না। সেখানেও জমছে লাশের স্তূপ।
মারণ ভাইরাসের ছায়া পড়েছে স্পেনের রাজপরিবারেও। কোভিড-১৯ সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে বারবন-পারমা বংশের রাজকুমারী মারিয়া টেরেসার। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।