দ্য ওয়াল ব্যুরো : সোমবার রাজস্থানের বিদ্রোহী বিধায়ক শচীন পাইলট ও তাঁর ১৮ জন অনুগামীর আবেদনের ভিত্তিতে শুনানি হয় হাইকোর্টে। সেখানে কংগ্রেসের তরফে আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি বলেন, "বিদ্রোহী বিধায়করা এখনই স্পিকারের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন না। কারণ স্পিকার এখনও তাঁর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেননি। স্পিকারের অফিস এবং বিধানসভা কোর্টের আওতার মধ্যে পড়ে না।" স্পিকার সি পি যোশির হয়ে এদিন কোর্টে সওয়াল করেন অভিষেক মনু সিংভি।
গত সপ্তাহে বিধানসভার স্পিকার সি পি যোশি শচীন পাইলটদের নোটিস দিয়ে জানতে চান, দলবিরোধী কাজের জন্য তাঁদের ডিসকোয়ালিফাই করা হবে না কেন? এরপরে হাইকোর্ট বলে, মঙ্গলবার অবধি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিতে পারবেন না স্পিকার। গত সপ্তাহে অশোক গেহলোট কংগ্রেস বিধায়কদের নিয়ে দু'টি বৈঠক করেন। তার একটিতেও উপস্থিত হননি শচীন বা তাঁর অনুগামীরা। গত শনিবার রাজ্যপাল কলরাজ মিশ্রের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপরেই শোনা যায়, চলতি সপ্তাহেই বিধানসভায় শক্তিপরীক্ষা দিতে পারে সরকার।
শচীন পাইলট ও তাঁর অনুগামীরা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দিল্লির কাছে দু'টি রিসর্টে ছিলেন। হাইকোর্টে তাঁরা বলেছেন, বিধানসভায় যখন অধিবেশন চলছে না, তখন স্পিকার তাঁদের নোটিস দিতে পারেন না।
২০০ সদস্যবিশিষ্ট রাজস্থান বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে আছেন ১০২ জন বিধায়ক। গরিষ্ঠতা পেতে যতজনের সমর্থন প্রয়োজন, তার চেয়ে মাত্র একজন বেশি বিধায়ক আছেন অশোক গেহলোটের পক্ষে। বিজেপির পক্ষে আছেন ৭২ জন বিধায়ক। শচীন পাইলটদের শিবিরে আছেন ১৯ জন বিধায়ক। সুতরাং বিধানসভায় শক্তিপরীক্ষা হলে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিদ্রোহীদের নিয়ে মামলার পাশাপাশি চলছে পুলিশি তদন্ত। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বিজেপি ঘুষ দিয়ে কংগ্রেসের কয়েকজন বিধায়ককে দলে টানার চেষ্টা করছে। রাজস্থানে সরকার ফেলার এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত আছেন স্বয়ং শচীন পাইলট। এর মধ্যে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা কয়েকবার শচীন পাইলটের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তাঁর সঙ্গে একটা মিটমাট করার চেষ্টাও তিনি করেছিলেন বলে জানা যায়। কিন্তু অশোক গেহলোট সরকার বিদ্রোহীদের সম্পর্কে কঠোর অবস্থান নেয়। শচীন পাইলটকে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।