দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২১ দিনের সম্পূর্ণ লকডাউন ঘোষিত হয়েছে দেশে। খোলা নেই কোনও দোকানপাট, রেস্তরাঁ। ঘর থেকে বেরোনোই বারণ মানুষের। এই পরিস্থিতিতে নাকি মদ্যপায়ীরা ‘উইথড্রয়াল সিম্পটম'-এ ভুগছেন নানা জায়গায়! এই সমস্যা এতই গুরুতর, যে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়েছে অনেকক। এর পরে সরকার ঘোষণা করেছে, সেই চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন দেখালে তাঁদের জন্য বিশেষ পাসের ব্যবস্থা করা হবে। সেই পাসের সাহায্যে মদ্যপায়ীরা সরাসরি আবগারি দফতরে গিয়ে মদ কিনতে পারবেন। এমনই ঘটনা ঘটেছে কেরলে।
সূত্রের খবর, সোমবার রাতেই এই সংক্রান্ত একটি সরকারি নির্দেশ জারি করা হয় সে রাজ্যে। তাতে বলা হয়েছে, লকডাউনের সময়ে রাজ্যের সমস্ত মদের দোকান বন্ধ থাকা অবস্থায় বহু সামাজিক সমস্যা ঘটছে। তার কিছু সামনে আসছে। এমনই এক সমস্যা হল অবসাদ। এর জেরে আত্মহত্যার চেষ্টার মতো ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষ করে যাঁরা নিয়মিত মদ্যপান করেন, তাঁদের মধ্যে এমনটা দেখা গিয়েছে। রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ করার। যদিও চিকিৎসকদের অ্যাসোসিয়েশন আপত্তি জানিয়েছিল তবু এই নির্দেশিকা জারি করার অভিযোগ উঠেছে কেরল সরকারের বিরুদ্ধে।
ওই নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, হঠাৎ করে মদ না খেতে পেরে ‘উইথড্রয়াল সিম্পটম'-এর কারণে যাঁদের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা শুরু হয়েছে, তাঁরা মদ কিনতে পারবেন এবার থেকে। তবে তা প্রেসক্রিপশন মেনেই করতে হবে। হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে তবেই অনুমতি মিলবে। যদি চিকিৎসকরা প্রেসক্রিপশনে লিখে দেন যে রোগী ‘উইথড্রয়াল সিম্পটম'-এর শিকার, তাহলেই তাঁকে পাস দেওয়া যেতে পারে, যাতে তিনি পরিমাণ মেনে মদ কিনতে পারেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সরকারি পরিচয়পত্রও দেখাতে হবে। আবগারি দফতরেও জমা দিতে হবে প্রেসক্রিপশন।
সরকারের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে ‘ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন'। সংগঠনের সভাপতি আব্রাহাম ভার্গেসে বলেন, "উইথড্রয়াল সিম্পটম দেখা গেলে বিজ্ঞানসম্মত ভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব। বাড়িতেই করা যায়, বা হাসপাতালে ভর্তি করা যায়। এ জন্য মদের অনুমতি দেওয়া মোটেই জরুরি নয়।''
সরকারের যুক্তি, এখনও পর্যন্ত কেরলে তিনটি আত্মহত্যার ঘটনা সামনে এসেছে যাঁরা ‘উইথড্রয়াল সিম্পটম'-এ ভুগছিলেন। হঠাৎ করে অ্যালকোহল নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই ওই তিন জন অবসাদে ভুগছিলেন বলে জানা গিয়েছে।