
শেষ আপডেট: 4 June 2023 05:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার সন্ধেয় ওড়িশার বালেশ্বরের মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় ৩০০ ছুঁইছুঁই মৃতের সংখ্যা। আহত হাজারেরও বেশি মানুষ। একেই দেশের সবচেয়ে বড় রেল দুর্ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। এরমধ্যেই খোঁজ শুরু হয় তিনটে ট্রেনের গার্ড এবং লোকো পাইলটদের। প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, তাঁদের খবর কী? ওঁরা কি আদৌ বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন?
শনিবার রাতের দিকে রেলের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রত্যেকেই নিরাপদে আছেন। যাত্রীবাহী ট্রেনদুটির লোকো পাইলট এবং গার্ডরা আহত হয়েছেন। তাঁরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে মালগাড়িটির চালক ও গার্ড অবশ্য অক্ষতই আছেন। দক্ষিণ পূর্ব রেলের খড়গপুর বিভাগের সিনিয়র ডিভিশনাল কমার্শিয়াল ম্যানেজার রাজেশ কুমার বলেছেন, "বিভিন্ন হাসপাতালে করমণ্ডল এক্সপ্রেসের লোকো পাইলট, সহকারী লোকো পাইলট ও গার্ড এবং বেঙ্গালুরু-হাওড়া এক্সপ্রেসের গার্ডের চিকিৎসা চলছে।"
শনিবার রেলের প্রাথমিক 'গ্রাউন্ড রিপোর্ট' এই দুর্ঘটনা নিয়ে একটি প্রাথমিক ব্যাখ্যা দিয়েছে। যাকে রেলের পরিভাষায় ‘জয়েন্ট নোট’ বলা হয়। সেই নোট অনুযায়ী এটাই বলা হয়েছে যে, এই দুর্ঘটনার কারণকে পুরোপুরি ‘মেকানিকাল’ বা পুরোপুরি ‘হিউম্যান এরর’–কোনওটাই বলা যায় না। কারণ সিগন্যালিংয়ের সময় কোনও ত্রুটি ছিল না, এমনকী চালকেরও কোনও ভুল ছিল না।
বলা হয়েছে, নিজের মেন লাইন ধরে ঠিকঠাকই ছুটছিল করমণ্ডল এক্সপ্রেস। সিগন্যালও ছিল থ্রু লাইনেরই। ট্রেনের চালক তা দেখতেও কোনও ভুল করেননি। তার পরেও থ্রু লাইনের পাশ থেকে ভাগ হওয়া লুপ লাইনে উঠে গিয়েছিল করমণ্ডলের চাকা! তাও আবার ঘণ্টায় ১২৭ কিলোমিটার গতিবেগে থাকা অবস্থায়! সেই লাইনেই দাঁড়িয়ে ছিল মালগাড়ি। তাতে গিয়েই সটান ধাক্কা মারে করমণ্ডল এক্সপ্রেস।
এরপর প্রশ্ন উঠতে পারে যে, চালক কেন এমার্জেন্সি ব্রেক দেননি। তারও ব্যাখ্যা রয়েছে। বলা হয়, হঠাৎ করেই ঘটনাটি ঘটেছে। ফলত ট্রেনের চালকের কোনওভাবেই বোঝার কথা নয় যে কী হয়েছে? কারণ তাঁর লাইন এবং সিগন্যাল- দু'টোই নির্ভুল ছিল। ফলে ভয়ঙ্কর ধাক্কায় রীতিমতো দুমড়ে মুচড়ে যায় করমণ্ডল।
সূত্রের খবর, শুক্রবার রাতেই দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন রেলের চার পদস্থ কর্তা। তবে, তাঁদের এই রিপোর্ট একেবারেই প্রাথমিক। রেলওয়ে সিকিওরিটি কমিশনারের তদন্তের পরই এই দুর্ঘটনার কীভাবে ঘটল, কারও গাফিলতি ছিল কিনা, এই সব প্রশ্নের জবাব পাওয়া যাবে।
কীভাবে ট্রেন দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়? কী কী আধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে বিশ্বের নানা দেশে