
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ বিশ্বাস, ইন্দ্রনীল সেন।
শেষ আপডেট: 2 January 2025 20:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকারি কাজে স্বচ্ছতা আনতে ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া চালু করেছে রাজ্য। অথচ সেই ই-টেন্ডারের সুযোগ নিয়ে কার্যত সরকারকেই 'ব্ল্যাকমেল' করছেন একাংশ ঠিকাদার!
অভিযোগ, টেন্ডার নিয়ে দিনের পর দিন সেই টেন্ডার ফেলে রাখছেন একাংশ ঠিকাদার। এমনকি কাজের বরাত নিয়ে নিজে কাজ না করে অন্যকে দিয়ে করাচ্ছে বলেও অভিযোগ। বৃহস্পতিবার নবান্নের প্রশাসনিক বৈঠকে এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও ইন্দ্রনীল সেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "এটা ডিপার্টমেন্টের কোরাপশন নয়। ই-টেন্ডারের সুযোগ নিয়ে অনেকে সরকারকে অপব্যবহার করছে। বছরের পর বছর সরকারি কাজকে ঝুলিয়ে রাখছে এদের সঙ্গে কম্প্রোমাইজের প্রশ্নই নেই।" এরপরই টেন্ডারের নিয়মে বদল আনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন প্রশাসনিক বৈঠকের শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানতে চান, কারও কিছু বলার আছে কিনা। তখন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেন, "দিদি টেন্ডার ক্লজ ঠিক না থাকলে কোনও কাজ সিডিউল টাইমে শেষ করা যায় না। এমনকী টেন্ডার ক্লজে কোনও পেনাল্টি নেই। ফলে যে কাজটা ১ বছরের জন্য দেওয়া হয়, সেটা ৩ বছরেও শেষ হয় না।"
বিস্মিত মুখ্যমন্ত্রী জানতে চান, এটা কেন হচ্ছে? জবাবে অরূপ বলেন, পেনাল্টি ক্লজ না থাকার জন্যই হচ্ছে। সব ডিপার্টমেন্টে একই অবস্থা। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "ফাইনান্স ডিপার্টমেন্ট থেকে এব্যাপারে সেন্ট্রাল পলিসি করে দাও। সকলকে মানতে হবে। পেনাল্টি যুক্ত করতে হবে। প্রয়োজনে সম্পত্তি ক্রোক করতে হবে। সেটাও বাধ্যতামূলক করতে হবে।"
এ সময়ই রাজ্যের আর এক মন্ত্রী ইন্দ্র্নীল সেন বলেন, "টুরিজিম বিভাগে কাজের ক্ষেত্রে দেখেছি অনলাইনের সুযোগ নিয়ে অনেকে বাজার দরের চেয়ে প্রায় ৩৫ শতাংশ লসে কাজ নিচ্ছে। তারপরে কাজ না করে ফেলে রাখছে। ফলে সরকারি কাজ সময়ে শেষ হচ্ছে না।"
যে টেন্ডার পাচ্ছে কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থার কাছ থেকে ব্যাঙ্কে সিকিউরিটি অর্থ জমা রাখার প্রস্তাবও দেন ইন্দ্রনীল। তাঁর কথায়, "টেন্ডার ক্লজ না থাকার ফলে সরকারি কাজটাকে ডিস্টার্ব করার জন্য ১০০ টাকার কাজকে ৭০ টাকায় নিয়ে সেই কাজ করছে না। সিকিউরিটি মানি জমা রাখলে এটা বন্ধ হবে।"
এ সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "অনলাইনে সুবিধাও আছে। অসুবিধাও আছে। তুমি ফিল্ড ভেরিফিকেশন না করে কেন কাজ দেবে? তার অথেনটিসি কি আছে?" এসময় মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া জানান, হুগলিতে একটি কাজের টেন্ডারে ঠিকাদার সংস্থা নাকি ৬২ শতাংশ কমে কাজ করার আবেদন জমা দিয়েছে!
এসব শুনে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ, অনলাইন, অফলাইন দুটোই রাখো। ক্রেডিবিলিটি, কোয়ালিটি এবং কাজ করার অভিজ্ঞতা দেখো। তারপরই টেন্ডার দেবে। সরকারি কাজে গাফিলতি বরদাস্ত করব না।