দ্য ওয়াল ব্যুরো : চলতি সপ্তাহেই সংশোধিত হয়েছে নাগরিকত্ব আইন। তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারত সহ দেশের নানা প্রান্তে। শুক্রবার দিল্লিতেও জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ওপরে লাঠি চালিয়েছে পুলিশ। শনিবার রাজধানীর রামলীলা ময়দানে নাগরিকত্ব বিলের বিরুদ্ধে 'মেগা র্যালি' করতে চলেছে কংগ্রেস। সেখানে উপস্থিত থাকবেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়া প্রমুখ।
জনসমাবেশের নাম দেওয়া হয়েছে, 'ভারত বাঁচাও'। নাগরিকত্ব আইন বাদে চাকরি ও কৃষকদের সমস্যা নিয়েও বক্তব্য পেশ করবেন কংগ্রেস নেতারা। দলের দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব এবং হরিয়ানার নেতাদের বলা হয়েছে, রামলীলা ময়দানে সমর্থকদের জড়ো করতে। সব মিলিয়ে লক্ষাধিক মানুষ জড়ো হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
বিদেশে যাঁরা কংগ্রেসের সমর্থক আছেন, তাঁরাও 'ভারত বাঁচাও' দাবিতে নানা শহরে এদিন বিক্ষোভ দেখাবেন। ওভারসিজ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, 'আমরা বিভেদকামী মনোভাব, ঔদ্ধত্য ও অযোগ্যতার বিরুদ্ধে সারা বিশ্বে বার্তা দিতে চাই।'
শুক্রবার দিল্লিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে মিছিল করে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা। মিছিল সংসদ ভবনের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। তখন ছাত্ররা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ৫০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করে। সংসদ ভবনের আশপাশে বড় ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করে দেয়।
ছাত্রদের মিছিল যখন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর ছেড়ে বেরোচ্ছিল, তখনই পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল ফাটায়। ছাত্ররা যাতে মেট্রো চড়ে সংসদ ভবনে পৌঁছতে না পারে, সেজন্য দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন কিছুক্ষণের জন্য পটেল চৌক ও জনপথ স্টেশন বন্ধ করে দেয়।
মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ টুইট করে জানিয়েছে, দিল্লি পুলিশের অনুরোধ মেনে আমরা পটেল চৌক ও জনপথ মেট্রো স্টেশনের এক্সিট গেট বন্ধ করে দিয়েছিলাম। সেই সময় কোনও ট্রেন ওই দু’টি স্টেশনে থামেনি।
প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব বিলে বলা হয়েছে, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ যদি ধর্মীয় নিপীড়নের ভয়ে পালিয়ে আসেন, তবে তাঁদের ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর অবধি যাঁরা এদেশে এসেছেন, তাঁরাই নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ বৃহস্পতিবার রাতে ওই বিলে সই করেছেন। তারপর বিলটি আইনে পরিণত হয়েছে।
এরপর ক্যাব নিয়ে বড় ধরনের অশান্তি শুরু হয় উত্তর-পূর্ব ভারতে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা হয় অসমের। সেখানে বৃহস্পতিবার পুলিশের গুলিতে তিন জন আন্দোলনকারীর মৃত্যু হয়েছে। গুয়াহাটির লাসিতনগরে গুলি চালানোয় মৃত্যু হয় দীপাজ্জ্বল দাসের। তিনি গুয়াহাটির সৈনিক ভবনের ক্যান্টিনের কর্মী। নিহত যুবকের বাড়ি অসমের ছয়গ্রামে।
গুয়াহাটিরই হাতিগাঁও এলাকার শঙ্করপথে পুলিশকে লক্ষ্য করে আন্দোলনকারীরা টানা পাথর ছু়ড়তে শুরু করলে এক সময় গুলি চালায় পুলিশ। তাতে আরও এক আন্দোলনকারীর মৃত্যু হয়। তৃতীয় বার গুলি চালানো হয়েছে গুয়াহাটিরই বৈশিষ্ট্যের নতুন বাজারে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঘটনায় মৃতদের নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি।