দ্য ওয়াল ব্যুরো : আমি নীতিগতভাবে অধিবেশন ডাকার বিরুদ্ধে নেই। সোমবার জানিয়ে দিলেন রাজস্থানের রাজ্যপাল কলরাজ মিশ্র। কিন্তু অধিবেশন ডাকার আগে তিনি মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলোটকে তিনটি প্রশ্ন করেছেন। প্রথমত, করোনা অতিমহামারির সময় অধিবেশন ডাকার আগে প্রত্যেক বিধায়ককে কি তিন সপ্তাহের নোটিস দেওয়া উচিত নয়? দ্বিতীয়ত, বিধানসভার অধিবেশন হলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা যাবে কীভাবে? তৃতীয়ত বিধানসভায় কি আস্থাভোট নেওয়া হবে?
সোমবার সকালে জানা যায়, রাজ্যপাল বিধানসভার অধিবেশন ডাকার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। পরে রাজ্যপাল বলেন, তিনটি প্রশ্নের জবাব পেলে তাঁর অধিবেশন ডাকতে আপত্তি নেই। তাহলে সত্যিই কি অধিবেশন শুরু হতে চলেছে? এই প্রশ্ন নিয়েই দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি।
মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভার অধিবেশন ডাকার জন্য দু'বার রাজ্যপালের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। গত সপ্তাহে তিনি প্রথমবার বিধানসভার অধিবেশন ডাকার জন্য রাজ্যপালের কাছে আবেদন জানান। রাজ্যপাল বলেন, ছ'টি কারণে এই অনুরোধ রক্ষা করা সম্ভব নয়। তার অন্যতম হল, কবে থেকে অধিবেশন চান, মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেননি। অধিবেশনে কী আলোচনা হবে তাও জানানো হয়নি। একইসঙ্গে রাজ্যপাল জানান, প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী শচীন পাইলট ও তাঁর অনুগামীদের বিষয়টি এখন কোর্টের বিবেচনাধীন। এর পরেই সোমবার সুপ্রিম কোর্ট থেকে কংগ্রেস তার পিটিশন তুলে নেয়।
মুখ্যমন্ত্রী দ্বিতীয়বার আবেদন করেন গত শনিবার। তাতে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেন, ৩১ জুলাই থেকে অধিবেশন শুরু হোক। সেখানে করোনা অতিমহামারী নিয়ে আলোচনা হবে। সোমবার সকালে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বিতীয় আবেদন রাজ্যপাল নাকচ করে দেন। তিনি মনে করেন, করোনা অতিমহামারীর জন্য তিন সপ্তাহ বাদে অধিবেশন ডাকা উচিত। অশোক গেহলোট বলেন, "রাজ্যপাল ফের ছ'পাতার প্রেমপত্র পাঠিয়েছেন।"
একটি সূত্রে খবর, আস্থাভোট নেওয়ার জন্যই তাড়াহুড়ো করছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ধারণা, শচীন পাইলটের শিবিরের যে বিধায়করা এখন হরিয়ানায় আছেন, অধিবেশন শুরু হলে তাঁদের কয়েকজনকে নিজের পক্ষে আনতে পারবেন। ২০০ আসনবিশিষ্ট বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে আছেন ১০২ বিধায়ক। গরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য যতজনের সমর্থন দরকার, তার চেয়ে মাত্র একজন বেশি আছেন মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে। অবশ্য তাঁর সমর্থকের সংখ্যা আরও কমতে পারে। কারণ বিএসপি নেত্রী মায়াবতী এদিনই রাজস্থানে তাঁর দলের বিধায়কদের নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁরা যেন কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ভোট দেন।