
শেষ আপডেট: 27 November 2021 11:14
এমন কাজকে স্বাগত জানালেও সুভাষ সরোবরের মধ্যে এমন কংক্রিটের আস্তানা তৈরি হওয়া নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে। রোজ সকাল-বিকেল বহু মানুষ এই সরোবরে আসেন। প্রাতঃভ্রমণের উদ্দেশে আসা মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন, কেন সরোবরের মধ্যে আবার একটা কংক্রিটের আস্তানা তৈরি করা হচ্ছে?
শুধু তাই নয়, সরোবরের মধ্যে ও চারপাশে আছে প্রচুর গাছ। নিস্তব্ধ এলাকায় রাতের বেলায় এখানেই আশ্রয় নেয় পাখিরা। নিরাপত্তার খাতিরেই নতুন তৈরি হওয়া হওয়া পুলিশ তাঁবুতে বাড়বে লোকের আনাগোনা। বাড়বে গাড়ির সংখ্যাও। তাতে পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি, সরোবরের মধ্যেকার ভারসাম্য রক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন অনেকেই।
এমনিতেই সরোবরের মধ্যে একাধিক মন্দির আছে। পাশেই আছে বিশাল কংক্রিটের ছাউনি। অব্যবহৃত এই খালি ছাউনিতে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না কেন? প্ৰশ্ন তুললেন দীপঙ্কর বসু। রোজ এখানে প্রাতঃভ্রমণ সারেন বছর ৭০-এর দীপঙ্করবাবু। তাঁর কথায়, "সকালে হাঁটতে গিয়ে কয়েকদিন ধরেই দেখছি সরোবরের দক্ষিণ পূর্ব প্রান্তে গর্ত করে লোহার বিম বসানোর কাজ চলছে। তার ফলে সবুজ ধ্বংস হচ্ছে।"
শুধু তিনি নন, এই সরোবরে রোজ আসা বহু মানুষের মধ্যেই উঁকি দিচ্ছে একই অভিযোগ। গগন বসু নামে এক বৃদ্ধ এলাকাবাসী রোজই আসেন এই সরোবরে। সুভাষ সরোবরের মধ্যে কংক্রিটের এমন প্রকল্প তৈরি বেআইনি বলে মনে করছেন গগনবাবু। তিনি বলেন, "আগেও এখানে সরোবরের মধ্যে কংক্রিটের কাজ করা নিয়ে আপত্তি ছিল। পরিবেশের ক্ষতি কি হবে তা না জেনে সরোবরে কোনও কাজ করা যাবে না। কিন্তু তারপরও কিভাবে এমন কাজ হচ্ছে সরোবরের মধ্যে?"
"রোজ এখানে আসি, যেই জায়গাটা কাজ হচ্ছে সেখানে কিছু গাছও ছিল। সেগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। এতে পরিবেশের ক্ষতি হল। কাজ যদি করতেই হত পাশের খালি ছাউনিতে করা যেত। তার জন্য নতুন করে কনস্ট্রাকশন করার দরকার ছিল না", জানালেন গৌতম দত্ত।
সুভাষ সরোবরের মধ্যে এহেন কাজ করায় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, এমনই অভিযোগ করলেন পরিবেশবিদ নব দত্ত। তাঁর কথায়, "কয়েকদিন ধরেই সরোবরে আসা মানুষদের থেকে অভিযোগ পাচ্ছি যে হনুমান মন্দিরের পেছনে গাছ কেটে মাটিতে গর্ত করে কনস্ট্রাকশনের কাজ হচ্ছে। এমন কাজের জন্য যদি কেএমডিএ অনুমোদন দিয়েও থাকে তাহলেও সেটা আইন বিরুদ্ধ হয়েছে বলে মনে করি। সংশ্লিষ্ট দফতরের কাছে আবেদন জানাই অবিলম্বে এমন কাজ বন্ধ করা হোক।"
কলকাতার বুকে অন্যতম দুই সংরক্ষিত সরোবরের মধ্যে অন্যতম বেলেঘাটার সুভাষ সরোবর। বহুদিন এই সরোবরটি নজরদারির আড়ালেই ছিল। অবৈধভাবে গাছ কাটা থেকে মাছ ধরা সবই চলত। এখানেই গড়ে উঠেছে মন্দির, কংক্রিটের ছাউনি। এমনকি মেট্রোর কাজের জন্য কাটা হয়েছে অনেক গাছ। তাই নতুন করে ফের কংক্রিটের কাজ হওয়ায় উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী। সরোবরের বাইরেও তো করা যেত এই প্রকল্প? এলাকাবাসীর প্রশ্নের সদুত্তর নেই কারোর কাছে।