
শেষ আপডেট: 22 July 2020 18:30
১২ জুলাইয়ের আগে ভোর রাতে আবছা দেখা যেত ধূমকেতু নিওওয়াইসকে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে আরও একটু স্পষ্ট হয়ে দেখা দিতে থাকে তার উজ্জ্বল দুটি লেজ। সূর্যাস্তের পরে নানা দেশ থেকে এই ধূমকেতুকে আকাশে ভেসে বেড়াতে দেখা যায়। কলকাতার আকাশেও দেখা দেয় নিওওয়াইস। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, এবার সন্ধ্যের পর থেকে রাত সাড়ে ৯টা অবধি আকাশে আরও স্পষ্ট হয়ে দেখা দেবে এই ধূমকেতু। খালি চোখেই দেখা যাবে। সপ্তর্ষিমণ্ডলের দক্ষিণে উজ্জ্বল হয়ে আলো ছড়িয়ে দেবে।
https://twitter.com/AJEnglish/status/1283046089793437698?s=19
‘ওয়াইল্ড-ফিল্ড ইনফ্রারেড সার্ভে এক্সপ্লোরার’ (WISE) স্পেস টেলিস্কোপ তথা ওয়াইস টেলিস্কোপে (WISE) নিয়ার-আর্থ অবজেক্ট দেখতে গিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই ধূমকেতুকে সৌরমণ্ডলে ভেসে বেড়াতে দেখেন। ওয়াইস টেলিস্কোপের নামে তার নাম রাখা হয় নিওওয়াইস। পোশাকি নাম সি/২০২০ এফ৩। সেই সময় সূর্যের কাছাকাছি ছিল নিওওয়াইস। পরে একটু একটু করে পৃথিবীর অভিকর্ষজ বলের টানে এগিয়ে আসতে থাকে। নিওওয়াইসের পরিধি ৩০ কিলোমিটারের কম। এর শরীর তৈরি হয়েছে পাথর, গ্যাস আর বরফ দিয়ে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সূর্যের কাছাকাছি সৌরবায়ু ও তড়িদাহত সৌরকণাদের সংস্পর্শে এসে এই গ্যাস ও বরফ উবে গিয়ে নতুন পরিমণ্ডল তৈরি হয়েছে। দুটো লেজও তৈরি হয়েছে যার একটি গ্যাসের ও অন্যটির ধুলোর।
বিজ্ঞানীদের অনুমান, কুইপের বেল্ট বা ওরট ক্লাউড (Oort Cloud) থেকে বেরিয়ে মহাশূন্যে ঘুরতে ঘুরতে সৌরমণ্ডলে ঢুকে পড়েছে এই ধূমকেতু। ভুবণেশ্বর প্ল্যানেটোরিয়ামের ডেপুটি ডিরেক্টর পাথানি সামন্ত বলেছেন, প্রায় সাত হাজার বছর পরে ব্রহ্মাণ্ডের হিমশীতল এলাকা থেকে এসেছে দুই লেজের ধূমকেতু। অগস্ট অবধি পৃথিবীর কাছাকাছি থাকবে। তারপরে ফের মহাশূন্যে হারিয়ে যাবে। এখন প্রতি ঘণ্টায় ১৩ হাজার ৯৪২ কিলোমিটার বেগে পৃথিবীর আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে নিওওয়াইস। উত্তর ব্রিটেন, ওয়াশিংটন, জাপান সহ বেশ কয়েকটি দেশ থেকে দেখা গেছে এই ধূমকেতুকে। নাসার টেলিস্কোপে ধরা পড়েছে সেই দৃশ্য।