বাংলার রাজ্যপাল পদ থেকে সিভি আনন্দ বোসের হঠাৎ পদত্যাগ রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করছে। কী কারণে তিনি ইস্তফা দিয়েছেন তা এখনও জানা যায়নি, তবে সিভি আনন্দ বোসের এই সিদ্ধান্তে অবাক হয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা-রাজ্যপাল
শেষ আপডেট: 5 March 2026 21:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার রাজ্যপাল পদ থেকে সিভি আনন্দ বোসের হঠাৎ পদত্যাগ (Governor CV Anand Bose Resigned) রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করছে। কী কারণে তিনি ইস্তফা দিয়েছেন তা এখনও জানা যায়নি, তবে সিভি আনন্দ বোসের এই সিদ্ধান্তে বিস্মিত হয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। পাশাপাশি রাজ্যপাল নিয়োগের বিষয়ে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM on Governor resigned) তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে লেখেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে সি. ভি. আনন্দ বোস (CV Anand Bose) হঠাৎ পদত্যাগ করেছেন বলে তিনি খবর পেয়েছেন। তবে এই পদত্যাগের সঠিক কারণ এখনও তাঁর জানা নেই। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক স্বার্থে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজ্যপালের উপর চাপ সৃষ্টি করে থাকতে পারেন বলেও তাঁর আশঙ্কা।
I am shocked and deeply concerned by the sudden news of the resignation of Shri C. V. Ananda Bose, the Governor of West Bengal.
The reasons behind his resignation are not known to me at this moment. However, given the prevailing circumstances, I would not be surprised if the…— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) March 5, 2026
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (অমিত শাহ) তাঁকে ফোন করে জানিয়েছেন যে আর. এন. রবিকে পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে। কিন্তু এই বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি বলেই অভিযোগ করেছেন তিনি। সাধারণত রাজ্যপাল নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার একটি প্রচলিত রীতি রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের একতরফা সিদ্ধান্ত ভারতের সংবিধানের ভাবনাকে দুর্বল করে এবং দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর উপর আঘাত হানে। কেন্দ্রের উচিত সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর নীতি মেনে চলা এবং এমন সিদ্ধান্ত না নেওয়া, যা গণতান্ত্রিক প্রথা ও রাজ্যের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে।
সিভি আনন্দ বোস এই মুহূর্তে দিল্লিতে রয়েছেন। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে ইতিমধ্যেই তাঁর পদত্যাগ পত্র পৌঁছে গিয়েছে বলে খবর। ঠিক কী কারণে তিনি ইস্তফা দিলেন তার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026) দোরগোড়ায়। এদিকে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ২০ মাস আগেই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদ থেকে ইস্তফা দিলেন আনন্দ বোস। যা রাজ্য-রাজনীতিতে জল্পনা বাড়িয়ে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করেছে রাজভবন সূত্র। দিল্লিতে থাকাকালীনই রাষ্ট্রপতি ভবনে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। সূত্রের খবর, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ইতিমধ্যেই তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।
২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর বাংলার মসনদে বসেছিলেন প্রাক্তন এই আমলা। প্রশাসনিক নিয়মে তাঁর মেয়াদ ছিল ২০২৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু সেই সময়সীমা ছোঁয়ার ঢের আগেই কেন তিনি সরলেন, তা নিয়ে দিল্লির রাজনৈতিক আলোচনা তুঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই পরিবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।